পুতিনকে বাইডেনের হুঁশিয়ারি

ইউক্রেনে হামলা হলে চড়া মূল্য দিতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন টেলিফোনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে আলাপ করেছেন। গতকাল শনিবার প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এই আলাপে বাইডেন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, ওয়াশিংটন মিত্রদের নিয়ে জবাব দিতে বাধ্য হবে এবং এজন্য মস্কোকে দ্রুতই চড়া মূল্য দিতে হবে। খবর আলজাজিরার।

হোয়াইট হাউজ বলছে, বাইডেন পুতিনের উদ্দেশে বলেছেন কোনো ধরনের আক্রমণ হলে ইউক্রেনে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেবে এবং রাশিয়ার অবস্থান হ্রাস পাবে।

অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিনকেনের সঙ্গে ফোনালাপে অভিযোগ করেন, মস্কোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র প্রপাগান্ডা চালাচ্ছে।

সিএনএন বলছে, জো বাইডেন এবং ভ্লাদিমির পুতিন ১ ঘণ্টা ২ মিনিট কথা বলেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার বেলা ১১টা ৪ মিনিটে দুই প্রেসিডেন্টের ফোনালাপ শুরু হয়। শেষ হয় বেলা ১২টা ৬ মিনিটে।

হোয়াইট হাউজের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দুই নেতার ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে ফোনালাপের বিস্তারিত তিনি জানাননি।

ইউক্রেন সীমান্তের কাছে রাশিয়ার সেনা মোতায়েন অব্যাহত থাকায় সংঘাত এড়াতে এক সপ্তাহের চলমান কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে দুই নেতার এ ফোনালাপ হয়। ইউক্রেন ইস্যুতে এর আগেও দুই নেতার কয়েক দফা আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোনো ইতিবাচক ফল মেলেনি।

গতকাল ইউক্রেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রশিক্ষকদের ফিরিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এ ছাড়া ইউক্রেনের যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের বেশিরভাগ কর্মীকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে রাশিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সতর্ক করে বলেছেন, ইউক্রেনে ‘যেকোনো সময়’ আক্রমণ শুরু করতে পারে রাশিয়া। বিমান থেকে বোমা হামলার মধ্য দিয়ে এই ধ্বংসযজ্ঞ অভিযান শুরু হতে পারে। এতে বেসামরিকদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে।

এর আগে গতকাল ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ফোনে কথা বলেন ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, এ সময় তিনি পুতিনকে বলেছেন চলমান উত্তেজনা নিরসনে আন্তরিক সংলাপ যথেষ্ট নয়।

ইউক্রেনে সম্ভাব্য রুশ সামরিক অভিযানের আশঙ্কা থেকে নিজেদের নাগরিকদের অবিলম্বে ইউক্রেন ছাড়তে বলেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পাঁচটি দেশ। এ জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়ে গত শুক্রবার হোয়াইট হাউজ নির্দেশনা জারি করে। যুক্তরাজ্য, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, নেদারল্যান্ডস একই ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে জরুরি কাজে নিয়োজিত নন এমন কর্মীদের ইউক্রেনের কূটনৈতিক মিশন ছাড়তে বলেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান সতর্ক করেছেন, ‘ইউক্রেনে বড় ধরনের সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য রুশ বাহিনী চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছে। যদিও আমরা ভবিষ্যৎ নিয়ে কিছুই বলতে পারব না, তবে এটা বলতে পারি, বর্তমানে সামরিক আগ্রাসনের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়েছে।’ জ্যাক সুলিভানের এমন সতর্কবার্তার পরপরই হোয়াইট হাউজ পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের নাগরিকদের ইউক্রেন ত্যাগের নির্দেশনা দেয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের অবিলম্বে ইউক্রেন ছাড়তে বলেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলো বলছে, ইউক্রেন সীমান্তে লক্ষাধিক সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। যেকোনো সময় ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে পারে দেশটি। তবে রাশিয়া বরাবরই পশ্চিমাদের তোলা এ অভিযোগ অস্বীকার করছে। দেশটি বলছে, ইউক্রেনে হামলা চালানোর কোনো পরিকল্পনা মস্কোর নেই।