নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় কৃষক লীগের ত্রি-বার্ষিকী সম্মেলনে হামলা ঘটনা ঘটেছে। উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস পারভেজের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ডিমলা উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
ডিমলা থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
হামলায় আহত হন- সম্মেলনের প্রধান অতিথি কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন, প্রধান বক্তা কৃষিবিদ বিশ্বনাথ সরকার বিটু, জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া আবিদ, কেন্দ্রীয় কমিটির নেতা কৃষিবিদ লুৎফুল বারি, জাহাঙ্গীর আলম ও জেলা কৃষক লীগের সদস্যসচিব এ্যাড. আজাহারুল ইসলাম।
খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ তাদের উদ্ধার করে জেলা সদরে নিয়ে এসেছে।
জেলা কৃষক লীগের সদস্যসচিব এ্যাড. আজাহারুল ইসলাম জানান, পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী রবিবার উপজেলা পরিষদের অডিটোরিয়ামে দুপুরে এই সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনের প্রথম পর্ব শেষ হবার পর দ্বিতীয় পর্বে কমিটি গঠনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নাম প্রস্তাবনা করার জন্য ঘোষণা করা হয়। সভাপতি পদে দরিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক পদে আব্দুল রাজ্জাকের নাম আসে।
তিনি আরও জানান, এ সময় হঠাৎ করে সম্মেলনের মঞ্চে ডিমলা উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌস পারভেজের নেতৃত্বে একদল যুবক এসে হামলা চালায়।
জেলা কৃষক লীগের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া আবিদ জানান, পুলিশ এসে আমাদের ডিমলা থানায় নিরাপদে নিয়ে গেলে হামলাকারীরা থানায় গিয়েও আমাদের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে আমাদের ডিমলা থেকে জেলা সদরে নিরাপদে নিয়ে আসে।
কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি আব্দুল লতিফ তারিন জানান, আমরা বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সহ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির নেতাদের অবগত করেছি। আমরা এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এ বিষয়ে ডিমলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক ফেরদৌস পারভেজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, প্রথম অধিবেশন শেষে কাউন্সিলর ডেলিগেটরা যখন খাবার খাচ্ছিলেন ঠিক তখনই কেন্দ্রীয় নেতারা দ্বিতীয় অধিবেশনে বসেন। তারা নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন। সে সময় আমি ডেলিগেটসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে জানতে চাই আমাদের অনুপস্থিতিতে কীভাবে আপনারা সভাপতি-সম্পাদকের নাম ঘোষণা করলেন?
‘এ নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সেখান থেকে বের হয়ে থানা পুলিশের প্রটেকশনে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। কোনো প্রকার হামলা বা লাঞ্চিত বা ভাংচুরের ঘটনা হয়নি।’
নীলফামারী পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।