গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি ২১ মার্চ

গ্রাহক পর্যায়ে নতুন করে গ্যাসের দাম নির্ধারণের জন্য আগামী ২১ মার্চ গণশুনানি শুরু হবে। চলবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।

কমিশন শিগগিরই এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি দেবে বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো গ্যাসের খুচরা মূল্য ১১৭ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসিতে পাঠিয়েছে গত মাসে। তাতে বাসাবাড়িতে রান্নার দুই চুলার সংযোগে ৯৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২১০০ টাকা এবং এক চুলায় ৯২৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করার জন্য বলা হয়েছে। প্রায় একই হারে আবাসিকের প্রিপেইড মিটার, শিল্প, সিএনজি, বিদ্যুৎ, ক্যাপটিভ বিদ্যুতের খাতেও গ্যাসের দামও বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে বিতরণ কোম্পানিগুলো। প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ঘনমিটার গ্যাসের গড় দাম ৯ টাকা ৩৬ পয়সা থেকে বেড়ে ২০ টাকা ৩৫ পয়সা হবে। শিল্প খাতের প্রতি ঘনমিটারের দাম ১০ টাকা ৭০ পয়সা থেকে বেড়ে হবে ২৩ টাকা ২৪ পয়সা এবং ক্যাপটিভ বিদ্যুতে ১৩ টাকা ৮৫ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাব পাওয়ার তা যাচাই-বাছাই করতে কমিশন একটি কারিগরি কমিটি গঠন করে। কমিটি তিতাস গ্যাসসহ ছয় বিতরণ কোম্পানি, একটি সঞ্চালন কোম্পানি ও পেট্রোবাংলার প্রস্তাব আমলে নিয়ে তা যাচাই-বাছাই করছে।

বিতরণ কোম্পানিগুলো বলছে, এলএনজি আমদানির ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গ্যাসে ভর্তুকি বেড়ে গেছে। এই চাপ সামলাতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ ২০১৯ সালের ১ জুলাই গ্যাসের দাম বাড়ে। আবাসিক খাতে দুই চুলায় ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯৭৫ টাকা করা হয়। বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন, হোটেল ও রেস্তোরাঁ, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ, শিল্প ও চা বাগানে ব্যবহƒত গ্যাসের দাম গড়ে ৩২.০৮ শতাংশ বাড়ে।

দেশে বর্তমানে গ্যাসের দৈনিক চাহিদা ৪৩০ কোটি ঘনফুট। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে এখন পাওয়া যাচ্ছে ২৩৩ কোটি ঘনফুট। বঙ্গোপসাগরে থাকা দুটি ভাসমান এলএনজি প্রক্রিয়াকরণ টার্মিনালের মাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাস।

গ্যাসের মোট সরবরাহের ৬৮.৩৭ শতাংশ বিদ্যুৎ খাতে, ৯.৩৯ শতাংশ সারে, ৫.৯২ শতাংশ ক্যাপটিভ বিদ্যুতে, ৭.০৬ শতাংশ শিল্পে, হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ০.২৩ শতাংশ, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে ০.২৮ শতাংশ, সিএনজিতে ৩.০৭ শতাংশ, বাসাবাড়িতে ৫.০১ শতাংশ এবং চা বাগানে ০.৬৭ শতাংশ ব্যবহত হয়।