জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ডরিন পাওয়ার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেডের ১১৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর মাধ্যমে ডরিনের নিজস্ব ও সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৯১ মেগাওয়াটে উন্নীত হলো। নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফলে কোম্পানির আয় আরও এক হাজার ১০২ কোটি টাকা বাড়বে বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
ডরিন পাওয়ার জানিয়েছে, বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের (বিপিডিবি) সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশনের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ১০০ ঘণ্টা রিলায়েবিলিটি রান টেস্ট (আরআরটি) সফলভাবে সম্পন্ন করার পর গত ১১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করেছে। আগামী ১৫ বছর এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ সরবরাহের মাধ্যমে কোম্পানির প্রতি বছর এক হাজার ১০২ কোটি ২২ লাখ টাকা আয় হবে।
চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশনের ৯৯ দশমিক ৯০ শতাংশ মালিকানা রয়েছে ডরিন পাওয়ার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশনের। ডরিনের সাবসিডিয়ারি এ প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬৮০ কোটি টাকা বিনিয়োগ হয়েছে। এরমধ্যে ৫২০ কোটি টাকা বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট ১৬০ কোটি টাকা কোম্পানির পুঞ্জীভূত মুনাফা ও বোনাস শেয়ার ইস্যুর মাধ্যমে জোগান দেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ডরিন নিজস্ব তিনটি ও দুটি সাবসিডিয়ারির মাধ্যমে ১৭৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। এখন নতুন সাবসিডিয়ারি চাঁদপুর পাওয়ার জেনারেশন উৎপাদনে যাওয়ায় ডরিন পাওয়ারের উৎপাদন সক্ষমতা ২৯১ মেগাওয়াটে উন্নীত হলো।
টাঙ্গাইল, ফেনী ও নরসিংদীতে ডরিন পাওয়ারের তিনটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এগুলোতে ২২ মেগাওয়াট করে মোট ৬৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ আগামী ২০২৩ সালে শেষ হবে। এর বাইরে ঢাকা সাউদার্ন পাওয়ার জেনারেশন ও ঢাকা নর্দার্ন পাওয়ার জেনারেশন নামে ডরিন পাওয়ারের আরও দুটি সাবসিডিয়ারি কোম্পানি রয়েছে। এসব সাবসিডিয়ারির প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হচ্ছে ৫৫ মেগাওয়াট।
২০২০-২১ হিসাব বছরে বিদ্যুৎ বিক্রি থেকে ডরিন পাওয়ারের আয় হয় ৬৬৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এখন চাঁদপুরের নতুন কেন্দ্রের মাধ্যমে আয় এলে বছরে তা ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে। এতে করে নিট মুনাফাও আকর্ষণীয় হারে বাড়তে পারে। সর্বশেষ হিসাব বছরে কোম্পানির নিট মুনাফা হয় ১১৭ কোটি ৬১ লাখ টাকা। এ সময় শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ৮ টাকা ৯ পয়সা।