বাবা গান বাজাতে নিষেধ করায় ‘প্রতিশোধ’ নিতে ছেলেকে হত্যা

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার তালতলা গ্রাম থেকে নিখোঁজের ২৫ দিন পর স্কুলছাত্র আবু হুরায়রার (১৪) গলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত রবিবার রাতে গ্রামের একটি কবরস্থান থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় হাত-পা বাঁধা লাশটি উদ্ধার করা হয়।

আবু হুরায়রা তালতলা গ্রামের কৃষক আবদুল বারেকের একমাত্র ছেলে এবং চুয়াডাঙ্গা ভি জে সরকারি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র ছিল। গত ১৯ জানুয়ারি পাশের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়।

লাশ উদ্ধারের সময় সদর থানার ওসি মো. মহসীন সাংবাদিকদের জানান, দুই বছর আগে আবু হুরায়রার বাবা প্রতিবেশী শহিদুল ইসলামের ছেলে রাজমিস্ত্রি আবদুল মোমিনকে উচ্চস্বরে গান বাজাতে নিষেধ করেন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে একটি সাউন্ড সিস্টেম ভেঙে যায়। এতে ক্ষুব্ধ মোমিন প্রতিশোধ পূরণে আবু হুরায়রাকে বেছে নেয়। গত ১৯ জানুয়ারি একা পেয়ে খরগোশ ছানা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আবু হুরায়রাকে কবরস্থানে নিয়ে যায় মোমিন। সেখানে গলা টিপে হত্যার পর লাশ গুম করতে মাটিচাপা দেয়।

মোমিন সম্প্রতি চিরকুট পাঠিয়ে শিশুটির পরিবারের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করে। পরে পরিচয় গোপন রেখে আবু হুরায়রার বাবাকেও ফোন করে টাকা দাবি করে। এই ফোনকলের সূত্র ধরে মোমিনকে আটকের পর তার দেওয়া তথ্যে কবরস্থান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।

পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যকে হারিয়ে পাগলপ্রায় আবু হুরায়রার স্বজনরা। তারা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। গতকাল আবু হুরায়রার বোন রোজিনা আফরোজ জানান, তাদের ছয় বোন জন্মের পর আবু হুরায়রার জন্ম। এ কারণে ও ছিল পরিবারের সবার চোখের মণি। দুই বছর আগের সামান্য ঘটনায় তাকে হত্যা করা হবে, তা তারা কল্পনাও করতে পারেননি। হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

গতকাল চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবু তারেক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আবু হুরায়রা নিখোঁজের পর ২৬ জানুয়ারি তার বাবা আবদুল বারেক বাদী হয়ে প্রাইভেট শিক্ষক রঞ্জু, তার ভাই মঞ্জু, মা মহিমাসহ পাঁচজনকে আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন। ওই দিনই রঞ্জু ও মঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে তাদের কাছ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। এরপর এ ছাত্রের খোঁজে গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু হয়।

এরই মধ্যে ঘটনার ১৭ দিনের মাথায় ঘাতকরা চাঁদা দাবি করে পরিবারের কাছে চিরকুট পাঠায় ও শিশুটির বাবার মোবাইল নম্বরে কল দেয়। ওই নম্বরের সূত্র ধরে দুই সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তাদের একজন আবদুল মোমিনের স্বীকারোক্তিতে হত্যার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়। গত রাতেই এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মোমিনকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আগের মামলাটি আবু হুরায়রার পরিবার তুলে নেওয়ার কথা জানিয়েছে। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানান তিনি।