সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী

সারের দরবৃদ্ধির আলোচনা হয়নি, প্রস্তাবও আসেনি

আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম অনেক বেড়েছে। এতে দেশে সারের ভর্তুকি রাখা নিয়ে কৃষিমন্ত্রী উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে ‘ভয়ের কিছু নেই’ বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গতকাল বুধবার সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছেন, সারের দাম বাড়ানোর আলোচনা হয়নি, কোনো প্রস্তাবও আসেনি।

গত সোমবার কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম চারগুণ বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছর সারে ভর্তুকি দিতে খরচ হবে ২৮ হাজার কোটি টাকা, যা ২০২০-২১ অর্থবছর ছিল ৭ হাজার ৭১৭ কোটি টাকা। এবারের বাজেটে কৃষি ভর্তুকিতে বরাদ্দ ৯ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ফলে আরও প্রায় ১৯ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত প্রয়োজন। কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্বব্যাপী সারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় জাহাজভাড়া বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবছরে কেজিপ্রতি আমদানি ব্যয় ছিল এ রকম ইউরিয়া ৩২ টাকা, টিএসপি ৩৩ টাকা, এমওপি ২৩ টাকা ও ডিএপি ৩৭ টাকা। ২০২১-২২ অর্থবছর এ দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯৬, ৭০, ৫৪ ও ৯৩ টাকা। তবে সরকার কৃষককে ইউরিয়া ১৬, টিএসপি ২২, এমওপি ১৫ ও ডিএপি ১৬ টাকায় দিচ্ছে। সরকার বর্তমানে প্রতি কেজি সারে সার্বিক খরচের বিপরীতে ভর্তুকি দিচ্ছে ইউরিয়ায় ৮২, টিএসপিতে ৫০, এমওপিতে ৪১ এবং ডিএপিতে ৭৯ টাকা।

বিশাল অঙ্কের এই ভর্তুকি অব্যাহত রাখা কঠিন হবে জানিয়েছিলেন কৃষিমন্ত্রী। এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে, ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তিনি। অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘সারের দাম বাড়ানোর জন্য উনি (কৃষিমন্ত্রী) যদি ইঙ্গিত দিয়ে থাকেন, তা আমার জানা নেই। আপনারা কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ করুন।’

বিশাল ভর্তুকি প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘সারের সাবসিডি কমানোর কোনো প্রস্তাবনা আমাদের কাছে আসেনি। ভয়ের কোনো কারণ নেই। কী পরিমাণ সাবসিডি লাগবে, আমি জানি না। দাম বাড়ানো কমানোর কোনো প্রস্তাব আসেনি।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আমরা জনগণের অর্থ দেখাশোনা করি। সবাই যদি সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য তৎপর থাকেন সেটা ভালো। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা যেন না করা হয়, সেটা অর্থ মন্ত্রণালয়কে সবাই বলে থাকেন।’