ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে এলাকার সড়ক দিয়ে ইটভাটার মাটি টানার ট্রাক চলাচলের প্রতিবাদ করার পর প্রতিবাদকারী মো. আউয়াল মিয়ার সন্তানকে ওই ইটভাটার ট্রাকে চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার দুপুরে ট্রাকচাপায় ছেলে রাসেল মিয়া (৭) নিহত হওয়ার পর ইটভাটা মালিক ও ট্রাকচালকের বিচার দাবিতে বাবা মো. আউয়াল মিয়া গত দুদিন ধরে দাফন না করে ছেলের মরদেহ আঁকড়ে বসে ছিলেন। অবশ্য শেষমেশ পুলিশের আশ্বাস ও চাপাচাপিতে গতকাল বুধবার দুপুরে ছেলের মরদেহ দাফন করেছেন আউয়াল মিয়া। এদিকে শিশু রাসেল নিহতের ঘটনায় মামলা করতে গেলে প্রথমে মামলা না নিয়ে উল্টো তার বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে নাসিরনগর থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
ট্রাকচাপায় নিহত রাসেল মিয়া নাসিরনগরের হরিপুর ইউনিয়নের টেকপাড়া গ্রামের মো. আউয়াল মিয়ার ছেলে। সে স্থানীয় হরিপুর সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
নিহত রাসেলের বাবা আওয়াল মিয়া অভিযোগ করে বলেন, তার এলাকার একটি ইটভাটার অংশীদার ও ট্রাকমালিক মো. কাপ্তান মিয়া ভাটার জন্য ট্রাক দিয়ে মাটি আনতে গিয়ে এলাকার সড়ক নষ্ট করে ফেলছেন। তিনি এর প্রতিবাদ জানান গত ১৩ ফেব্রুয়ারি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কাপ্তান মিয়া দলবল নিয়ে গিয়ে আউয়ালকে হুমকি দেন। এলাকাবাসীর সামনেই কাপ্তান মিয়া ট্রাকের সামনে যা পড়বে সব মাটির সঙ্গে পিষে দিতে তার কর্মীদের নির্দেশ দেন। এরপর সোমবার দুপুরে মাটির ট্রাকচাপায় শিশু রাসেল নিহত হয়।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আউয়াল মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ছেলেকে ওরা মেরে ফেলেছে। এই ঘটনায় মামলা করতে সোমবার রাতেই নাসিরনগর থানায় যাই। সেখানে আমার লেখা মামলা না নিয়ে খারাপ ব্যবহার করে তাড়িয়ে দেয় পুলিশ। পুলিশ বলছে, যে উকিল দিয়ে মামলা লেখিয়েছি তার মামলা নেবে না। থানায় মামলা লিখলে নেবে। মঙ্গলবার মামলা নেওয়ার দাবিতে এলাকাবাসীকে নিয়ে রাসেলের লাশসহ সড়ক অবরোধ করি। পরে পুলিশ এসে বলল মামলা নেবে। কিন্তু রাতে যে মামলা নিয়েছে তা হত্যা মামলা না। তাদের মনের মতো লিখে মামলা নিয়েছে। এ কারণে আমি আজও (গতকাল বুধবার) লাশ দাফন না করে প্রতিবাদ করতে থাকি। এরপর পুলিশ আবারও এসে হত্যা মামলা নেওয়াসহ আসামিদের শাস্তির আওতায় আনবে বললে ছেলের লাশ দাফন করি।’
হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নিহত শিশু রাসেলের মরদেহ আজ (গতকাল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত কবর দেওয়া হয়নি। পরে পুলিশ তাদের বাড়িতে আসে। তারা আসামিদের শাস্তির আওতায় আনার আশ্বাস দিলে শিশুটির লাশ কবর দেওয়া হয়।’
গতকাল দুপুরে টেকপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয় বলেও জানান এই জনপ্রতিনিধি।
পুলিশের সরাইল সার্কেলের সিনিয়র সহকারী সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, শিশু রাসেল নিহতের ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে দণ্ডবিধির ৩০৪/৩৪ ধারায় একটি মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
আর নাসিরনগর থানার ওসি হাবিবুল্লাহ সরকার গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা শিশু রাসেলের বাবার দেওয়া মামলা গ্রহণ করেছি। আজ (গতকাল) দুপুরে আমাদের উপস্থিতিতেই শিশুটিকে কবর দেওয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর ঘটনায় আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’
এদিকে শিশু রাসেলের মৃত্যুর জন্য তার বাবা ইটভাটার অংশীদার ও ট্রাকমালিক কাপ্তান মিয়াকে দায়ী করলেও তিনি সেই অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। কাপ্তান মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ট্রাক ড্রাইভার ছেলেটিকে (শিশু রাসেল) মারছে। এতে আমার কোনো দোষ নেই। আমি কাউকে কোনো হুমকি দেইনি।’