স্বাবলম্বী হয়ে প্রধানমন্ত্রীরউপহারের ঘর ফেরত

জমির উদ্দিন বিশ্বাস (২৮)। স্ত্রী ও ছোট্ট মেয়ে নিয়ে সংসার। ভূমিহীন হওয়ায় গত বছর জুনে ঠাঁই হয় মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহারের ঘরে। পান দুই শতক জমি। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন জমির।

সংগ্রামী এই যুবকের দিন বদলাতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মাত্র আট মাসের ব্যবধানে পরিশ্রমের অর্থে কিনেছেন ৮ শতক জমি। সেখানে তৈরি করেছেন বসতঘর। ব্যবসার আয়ে সচ্ছলতা ফেরায় জমির উদ্দিন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর ও জমি ফেরত দিয়েছেন। গত ১৮ জানুয়ারি স্ত্রী আফরোজা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমির দলিল হস্তান্তর করেন জমির। লিখিত আবেদনে তিনি অন্য ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে তার জন্য বরাদ্দকৃত জমি এবং ঘর দেওয়ার অনুরোধ জানান।

জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ইউনিয়নের শাহপুর গ্রামের মৃত খোদা বক্সর ছেলে জমির উদ্দিনের এ নজির এখন সবার প্রশংসা পাচ্ছে।

এ বিষয়ে জমির উদ্দিন বলেন, ‘একসময় আমার কিছুই ছিল না। নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই ছিল না, ছিল না এক শতক জমি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে সেই সুযোগ করে দেন। সেখান থেকেই আমি কলার ব্যবসা শুরু করি। এখন আমি স্বাবলম্বী। নিজের অর্থে জমি কিনে ঘর করেছি। আমার নিজের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে। সরকারি ঘর আমার আর প্রয়োজন নেই।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে আমার মতো এখনো অনেক দরিদ্র, ভূমি ও গৃহহীন মানুষ রয়েছেন। আমি আমার ঘর ও জমি তাদের দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে স্বাবলম্বী হওয়ার পথ দেখিয়ে দিয়েছেন। আমি চাই, এই ঘর ও জমি অন্য কোনো দরিদ্র মানুষ পেয়ে তিনিও যেন স্বাবলম্বী হতে পারেন।’

স্থানীয়রা জানান, পেশায় দিনমজুর জমির উদ্দিনের উপার্জিত অর্থে কোনো রকমে চলছিল সংসার। ভূমিহীন হওয়ায় গত বছর ২০ জুন মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া শাহপুর গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পান তিনি। এতে আর্থিক কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়। মাথা গোঁজার ঠাঁই হওয়ায় বিভিন্ন এলাকা থেকে কলা কিনে তা বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতে থাকেন জমির। এতে প্রতিদিন তার ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা লাভ থাকছে। পরিবারে এসেছে সচ্ছলতা।

আন্দুলবাড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান শেখ শফিকুল ইসলাম মোক্তার বলেন, ‘জমির উদ্দিন পরিশ্রমের অর্থে এখন স্বাবলম্বী। জমি কিনে ঘর করে সেখানে চলে গেছেন। নিজ উদ্যোগে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে ঘর ও জমির কাগজ ফেরত দিয়েছেন। সত্যিই তার এ উদ্যোগ প্রশংসার দাবি রাখে।’

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে কেউ যাতে গৃহহীন না থাকেন, সে জন্য আশ্রয়ণ প্রকল্প প্রধানমন্ত্রীর একটি স্বপ্ন। এরই ধারাবাহিকতায় দিনমজুর জমির উদ্দিন ঘর পেয়েছিলেন। সেই ঘরে বসবাস করে তিনি নিজের পরিশ্রমে আজ স্বাবলম্বী। এ জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জমি ও ঘরের কাগজপত্র ফেরত দিয়েছেন। এখন এগুলো অন্য দরিদ্রকে দেওয়া হবে।’