রাজধানীর শাহবাগ ও বিমানবন্দর এলাকায় পৃথক দুর্ঘটনায় দুই মোটরসাইকেল চালক, একজন নারী আরোহীসহ চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার তাদের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়। নিহতরা হলেন পাঠাও (মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং সেবা) চালক রফিকুল ইসলাম সুমন (৪০) ও আরোহী কাজল আক্তার (৩৫)। শাহবাগে দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো মোটরসাইকেল চালকের নাম খাদেমুল ইসলাম (৩০)।
পুলিশ ও হাসপাতালে আসা স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন পাঠাও (মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং সেবা) চালক রফিকুল ইসলাম সুমন (৪০) ও আরোহী কাজল আক্তার (৩৫)।
বিমানবন্দর থানার এসআই জুয়েল মিয়া বলেন, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে আউটগেটের ফুট ওভারব্রিজের নিচে এ দুঘর্টনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। জানতে পেরেছি কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
সংবাদ পেয়ে সেখান থেকে মৃতদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের আইনি প্রক্রিয়া শেষে সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
নিহত সুমনের ফুপাতো ভাই ফুয়াদ হাসান পল্লব দেশ রূপান্তরকে জানান, সুমনের বাবার নাম নুরুল ইসলাম। তাদের বাড়ি পিরোজপুর স্বরূপকাঠি উপজেলার জগৎপুর গ্রামে।
তিন মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে পুরান ঢাকার তাঁতীবাজারে থাকতেন সুমন। ছোটখাটো একটি ব্যবসার পাশাপাশি তিনি মোটরসাইকেল রাইড শেয়ারিং সেবা দিতেন। সকালে পুলিশের মাধ্যমেই তারা দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঢামেক মর্গে এসেছেন।
এদিকে নিহত কাজলের মা হাসিনা বেগম জানান, তাদের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার রানাপয়সা গ্রামে। পাঁচ বছর আগে স্বামী সেলিমের সঙ্গে তার বিচ্ছেদ হয়ে যায়। দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ান এলাকায় মায়ের সঙ্গে থাকতেন তিনি।
হাসিনা বেগম বলেন, কাজল একটি রেস্টুরেন্ট-বারে কাজ করে প্রায় ১০ বছর ধরে। প্রতিদিনের মতোই কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়। অন্য দিন রাতে বাসায় ফিরে আসে। গতকাল রাতে আর বাসায় ফেরেনি। সকালে পুলিশ জানিয়েছে সড়ক দুর্ঘটনায় কাজল মারা গেছে। পুলিশের ধারণা বাসায় ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হন কাজল।
বিমানকন্দর থানার ওসি (তদন্ত) মো. কায়কোবাদ কাজী বলেন, ঘাতক কাভার্ড ভ্যানকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
এদিকে রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন শিক্ষা ভবনের সামনে রাস্তায় সিমেন্টের মিক্সার মেশিন গাড়ির ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী খাদেমুল ইসলাম (৩০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। বুধবার রাত ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, রাতে মোটরসাইকেল চালিয়ে শিক্ষা ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সিমেন্টের মিক্সার মেশিন গাড়িটি তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়। এতে সে পড়ে গেলে ওই গাড়ির চাকার নিচে তার মাথা পিষ্ট হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার।
তিনি জানান, দুর্ঘটনার পরপরই গাড়িটি জব্দ ও তার চালককে আটক করা হয়েছে। নিহতের সঙ্গে থাকা কাগজপত্র থেকে তার নাম ও পরিচয় জানা গেছে। তার বাবার নাম নুরুল ইসলাম। বাড়ি মুন্সীগঞ্জ। মিরপুর শাহআলীতে থাকত সে। পেশায় ব্যবসায়ী। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত চলছে। মৃতদেহটি মর্গে রাখা হয়েছে।
সোনারগাঁওয়ে ট্রাকচাপায় কনস্টেবল নিহত: এদিকে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ট্রাকচাপায় আফাজ উদ্দিন (৪৫) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর চারটার দিকে সোনারগাঁও এশিয়ান হাইওয়েতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ভোর ৫টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরখিদি গ্রামে। বাবার নাম মজনু মিয়া। সোনারগাঁও তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে কর্মরত ছিলেন তিনি।
তদন্ত কেন্দ্রেটির সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. আফজাল হোসেন জানান, রাতে সোনারগাঁও এশিয়ান হাইওয়েতে ডিউটি করছিলেন তারা। রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগতির ট্রাক আফাজ উদ্দিনকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি পড়ে গেলে তার দুই পায়ের ওপর ট্রাকের চাকা উঠে যায়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পড়ে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি আরো জানান, ঘাতক ট্রাকটি ঘটনার পরপরই পালিয়ে গেছে। সেটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মৃতদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।