একুশে ফেব্রুয়ারি গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে পালন করা হয়। প্রতিবছর একুশ উপলক্ষে নতুন ডিজাইনের পোশাক আসে বাজারে। ছোট-বড় সবার পোশাকের রং, নকশা ও কাপড়ে থাকে একুশের নানা মোটিফ। শিশুদের একুশের পোশাক নিয়ে লিখেছেন মোহসীনা লাইজু
শিশুদের জন্য বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজ নানা ধরনের একুশের পোশাক নিয়ে এসেছে। পোশাকের তালিকায় আছে ছোটদের কামিজ, ফ্রক, স্কার্ট টপস সেট, পাঞ্জাবি, শার্ট, টি-শার্ট ও ফতুয়া। নকশায় প্রাধান্য পেয়েছে একুশের নানা মোটিফ।
পোশাকের ধরন
পোশাকে বর্ণমালার ব্যবহার সবচেয়ে জনপ্রিয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে একুশের গান, কবিতা, সেøাগান ও বাংলা ভাষায় রচিত বিভিন্ন পঙ্ক্তিমালা। যেখানে ফুটে উঠেছে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের নানা গৌরবগাথা। এ ছাড়া শহীদ মিনার, মানচিত্র, পতাকাসহ একুশের বিভিন্ন চিত্রের নান্দনিক প্রকাশ ঘটেছে এবারের পোশাকে। কে-ক্র্যাফট একুশের গৌরবগাথা তাদের পোশাকের নকশায় ফুটিয়ে তুলেছেন। এ প্রসঙ্গে কে-ক্র্যাফটের পরিচালক শাহনাজ খান বলেন, পোশাকের মোটিফে প্রাধান্য পেয়েছে শহীদ মিনার, বর্ণ ও শব্দমালার বিন্যাস। এছাড়া কোলাজ, ট্র্যাডিশনাল, জ্যামিতিক নকশায় সৃজনশীল অলংকরণে তৈরি হয়েছে পোশাক। ছোটদের জন্য আছে সালোয়ার-কামিজ, কুর্তি, টপস্, পাঞ্জাবি, শার্ট । গরমের জন্য তাঁত, সুতি, লিনেন কাপড়ে পোশাক তৈরি হয়েছে। নকশায় হাতের কাজ, স্ক্রিন ও ব্লক প্রিন্ট এবং টাই-ডাই মিডিয়ার ব্যবহার আছে। রং হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে কালো, সূর্যের লাল, ধূসর ও সাদাকে।
ছোটদের একুশের পোশাক নিয়ে রঙ বাংলাদেশ-এর স্বত্বাধিকারী ও ডিজাইনার সৌমিক দাস বলেন, ‘একুশের চেতনার সঙ্গে মিলিয়ে পোশাকে সাদা-কালো রঙের প্রাধান্য থাকলেও এখন আর এই দুটি রঙের মধ্যে আটকে নেই। একুশে নানা রঙের ব্যবহারও সর্বজনীন। সাদা, কালো, লাল, সবুজ, হলুদ, নীল সব রঙেই সাজছে একুশের পোশাক। কাপড়ের ক্ষেত্রে সুতির প্রাধান্য থাকলেও তাঁত, মসলিন, সিল্ক প্রভৃতিও ব্যবহার হয়েছে । পোশাকের নকশায় বর্ণমালা, ভাষা ও ভাষাশহীদদের পাশাপাশি দেশজ চেতনা ও ঐতিহ্যের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নকশায় নকশিকাঁথা ফোঁড়, ব্লক, স্প্রে-ব্লক, অ্যাপলিক, ক্যাটওয়াক, স্ক্রিন, হ্যান্ডপেইন্ট, এমব্রয়ডারির কাজ রয়েছে। ছেলেশিশুদের জন্য আছে নানা বর্ণমালা টি-শার্ট, ফতুয়া, পাঞ্জাবি এবং মেয়েদের ফ্রক, ফতুয়া, টপস ও শাড়ি।’
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতিফলন খুঁজে পাওয়া যায় নিত্যউপহারের একুশের পোশাকে। নিত্যউপহারের স্বত্বাধিকারী বাহার রহমান বলেন, ‘মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে নিয়ে এসেছি ছোটদের অনেকগুলো টি-শার্ট। টি-শার্টের নকশার শিরোনাম হলো আমার বচন, ভাষার মিনার, একুশের সকাল-২ ও বাল্যশিক্ষা। এছাড়াও শাড়ির নকশা হয়েছে শিল্পী হাশেম খানের আঁকা অ থেকে অক্ষর এবং শিল্পী সব্যসাচী হাজরার ডিজাইনে শিমুল ফুলের টি-শার্টও পাবেন। টি-শার্টের ফেব্রিকস হিসেবে থাকছে সুতি। নকশার মাধ্যম হিসেবে স্ক্রিনপ্রিন্টকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’
ছোটদের পোশাককে সবসময়ই গুরুত্ব দিয়ে নকশা করে ফ্যাশন হাউজ অঞ্জন’স। পোশাকে অক্ষর চিত্র বা ছাপচিত্র দিয়ে বৈচিত্র্যময় ডিজাইন করেছে এ বছর। লাল-সাদা-কালো সুতির সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া, শাড়ি এনেছে।
বিশ্বরঙ-এর ছোটদের পোশাকে আছে শাড়ি, থ্রি-পিস, ফতুয়া, পাঞ্জাবি ও বিশেষ ডিজাইনের টি-শাট । এসব পোশাকের নকশায় শহীদ মিনার, বর্ণমালা, ধারাপাত সংখ্যা, একুশের গান ও কবিতা তুলে ধরা হয়েছে। কালোর পাশাপাশি সবুজ ও লাল রঙের ব্যবহার দেখা যাবে। বড়দের মতো ছোটদের পোশাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আড়ং-এর ছোটদের পোশাকে লাল, কালো, সাদা রঙের সঙ্গে ধূসর, সবুজ, নীল, কমলা ইত্যাদি রঙের ব্যবহার। শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, ফতুয়া ও পাঞ্জাবি পাওয়া যাচ্ছে।
কোথায় পাবেন
একুশের পোশাক কিনতে আপনাকে যেতে হবে দেশীয় ফ্যাশন হাউজগুলোতে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো রঙ বাংলাদেশ, সাদাকালো, বিশ^রঙ, দেশাল, কে-ক্র্যাফট, অঞ্জন’স, নিত্যউপহার, ডুয়েট, ঐতিহ্য। এছাড়া অনলাইন ফ্যাশন হাউজ থেকেও একুশের পোশাক কিনতে পারেন। শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটের বুটিকগুলোতে একুশের নানা ধরনের পোশাক নিয়ে এসেছে। চাইলে ঘুরে আসতে পারেন এসব ছোট-বড় বুটিক ও ফ্যাশন হাউজগুলো থেকে। পোশাকের দাম মূলত ব্যান্ড ভ্যালু, নকশা ও ফেব্রিকস-এর ওপর নির্ভর করে। তবে সুতি ও লিনেনের পোশাক পাবেন সাশ্রয়ী দামে। ছোটদের একুশের শাড়ি পাবেন ৯০০ থেকে ১৫০০ টাকায়, সালোয়ার কামিজ ১০০০ থেকে ১৫০০, পাঞ্জাবি ৮০০ থেকে ২০০০ টাকা। টি-শার্ট ২৫০ থেকে ৫০০ আর শার্ট ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকার মধ্যে। ফ্রক পাবেন ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়।