কাতারে আজ রবিবার থেকে বিশ্বের শীর্ষ গ্যাস উৎপাদনকারীরা মিলিত হচ্ছেন। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যে গ্যাস অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে এই সম্মেলনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন থাকবেন কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কূটনীতিকরা। গ্যাস এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ ফোরামের ১১ সদস্য-রাষ্ট্র এই সম্মেলনে যুক্ত হচ্ছে, ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস সরবরাহ সংকট ও এর মূল্যবৃদ্ধির বিষয়কে কেন্দ্র করে। বিশ্লেষকরা বারবার বলে আসছেন, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে লড়াই শুরু হলে জ্বালানির দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। আর এতে সংকটে পড়বে বিশ্ববাসী।
গ্যাস সম্মেলনে উপস্থিত থাকবে রাশিয়া, কাতার, ইরান, লিবিয়া, আলজেরিয়া ও নাইজেরিয়ার প্রতিনিধিরা। এই কয়েকটি দেশের কাছেই আছে বিশ্বের গ্যাস রিজার্ভের ৭০ শতাংশ। রাশিয়ার সঙ্গে দ্বন্দ্বের কারণে ইউরোপ এখন গ্যাসের জন্য বিকল্প উৎসের সন্ধান করছে। অবশ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, এই গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো ইতিমধ্যেই তাদের সর্বোচ্চ উৎপাদন করছে। তারা যদি ইউরোপকে গ্যাসও দেয়, তা হবে আপৎকালীন। দীর্ঘমেয়াদে গ্যাস কোনোপক্ষই ইউরোপকে দিতে পারবে না, একমাত্র রাশিয়া ছাড়া। আজকের এই সম্মেলনের আয়োজক কূটনীতিকরা বৈঠক থেকে অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে দূরে রেখেছেন। অবশ্য এক্ষেত্রে কূটনীতিকরা ব্যাখ্যা দিয়ে জানিয়েছেন যে, ‘তাদের (অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র) হাত বাঁধা। তাদের কাছে কোনো বাড়তি গ্যাস নেই।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি থাকছেন এই সম্মেলনে। তার উপস্থিতি এবারের সম্মেলনকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। এ ছাড়াও থাকছেন আলজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট আবদেলমজিদ তেব্বুনে। প্যারিসের ইনস্টিটিউট অব পলিটিক্যাল স্টাডিজের অধ্যাপক থিয়েরি ব্রস জানান, রাশিয়া তার গ্যাজপ্রম দিয়ে এই শিল্পে আধিপত্য ধরে রেখেছে। একমাত্র গ্যাজপ্রমেরই রয়েছে বাড়তি গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা। ফলে একমাত্র পুতিনই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন, পৃথিবীর বাড়তি গ্যাস কোথায় যাবে।
পর্যবেক্ষকদের মতে, এবারের সম্মেলনে প্রায় সকল পক্ষই চাইবে ইউরোপ যাতে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। যদিও ইউরোপ ১০, ১৫ বা ২০ বছরের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে নারাজ। এ ছাড়া সব গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ যেন এই শিল্পে আরও অধিক বিনিয়োগ করে তাই চাহিদা থাকবে সম্মেলন থেকে। রাশিয়া এবং কাতারের লক্ষ্য থাকবে গ্যাস থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা তুলে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদে গ্যাসের বাজারে আধিপত্য করা।