বিদেশে কাজ করতে গিয়ে প্রতারণা বা নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীদের নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলোকে আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়া দরকার। কেননা, অর্থনীতির প্রধান তিনটি চালিকাশক্তির একটি রেমিট্যান্স। প্রবাসী কর্মীদের রক্তে-ঘামে এ খাত গড়ে উঠেছে। সেক্ষেত্রে গোটা খাতের কিছু অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় অন্য কর্মীরাও বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন।
গতকাল শনিবার অর্থনৈতিক বিটের সংবাদকর্মীদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ), রিচার্স অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড) ও দৃষ্টি রিসার্চ সেন্টার (ডিআরসি) আয়োজিত এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
আয়োজকরা জানান, বর্তমানে ১ কোটি ২৩ লাখ লোক বিদেশে কাজ করছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নারীকর্মীও রয়েছেন। ২০২০-২১ অর্থবছরে এই প্রবাসী কর্মীরা প্রায় ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। তবে বিভিন্ন সময় অনাকাক্সিক্ষত কিছু প্রতারণার ঘটনা ও নারীকর্মীদের শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যম যেভাবে সংবাদ উপস্থাপন করে তাতে অন্য কর্মীদের বিদেশে যাওয়া নিয়ে নানা ধরনের প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয় বলে দাবি করেন আলোচকরা।
‘মিডিয়া রিপ্রেজেন্টশন অব ওমেন মাইগ্র্যান্ট ওয়ার্কার্স : এ ক্রিটিকাল অ্যাসেসমেন্ট’ শীর্ষক ওই ওয়েবিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউএনডিপির কান্ট্রি ইকোনমিস্ট ড. নাজনীন আহমেদ। তিনি জানান ইউএনডিপিতে যোগ দেওয়ার আগে একটি গবেষণা করেছিলেন যেখানে দেখা গেছে, সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ২০১৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত দেশের প্রধান চারটি সংবাদপত্রে ৪৯৬টি অভিবাসন বিষয়ক সংবাদ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ১৪৭টি সংবাদ ছিল নারীদের নিয়ে (২১টি ইতিবাচক, ৯৯টি নেতিবাচক ও ২৬টি সংবাদে ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় বিষয় ছিল)।
ড. নাজনীন বলেন, ‘প্রতারণা বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীদের নিয়ে যেভাবে সংবাদ করা হয়, ঠিক সে ধরনের সংবাদ আক্রান্তরাও চান না। তারা গণমাধ্যমের কাছে তাদের অভিযোগ তুলে ধরেছিলেন ওই অভিযোগের প্রতিকার পাওয়ার আশায়। কিন্তু সংবাদ ছাপার পর উল্টো তাদের দেশে বসবাস করাও কঠিন হয়ে পড়ে। কেননা, তারা যে সমাজে বসবাস করেন সেখানে তারা নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হন।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. আহমেদ মুনিরুস সালেহীন বলেন, প্রবাসে যাওয়ার আগে কর্মীদের যেমন জেনেবুঝে যেতে হবে, তেমনি বিদেশে যাওয়ার পর একজন কর্মীও যাতে দুর্ঘটনার শিকার না হন আমরা সে বিষয়ে সচেতন।’
র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ বলেন, ‘এই কভিড পরিস্থিতির মধ্যে অভিবাসী কর্মীরা অর্থনীতির উন্নয়নে বড় একটি ভূমিকা পালন করছেন। এক্ষেত্রে গণমাধ্যমগুলো অভিবাসীদের নিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন করলে এ খাতের কাছে থেকে আরও ভালো ফলাফল আশা করা যাবে। সাংবাদিকরা তাদের নৈতিকতার মধ্য থেকে কীভাবে অভিবাসীদের আরও বেশি দক্ষ করা যায়, কীভাবে তাদের আরও নিরাপদ কর্মপরিবেশ দেওয়া যায়, আইনগত সহায়তাপ্রাপ্তির প্রক্রিয়াগুলো কী, এসব বিষয় নিয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।’