বিশ্বের সবচেয়ে নগরায়িত দেশের একটি— সিঙ্গাপুর। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্ট ও আকাশচুম্বী ভবনের অভাব নেই দেশটিতে।
তবে এমন একজন লোকের জন্য এসব যেন কিছুই নয়। সিঙ্গাপুরের বিলাসবহুল জীবন ও বাসস্থান ছেড়ে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন দেশটির জঙ্গলে। ওহ গো সেংয়ের সঙ্গে যদি আপনার কখনো দেখা হয় তবে তার চোখের আভায় আপনি যে মুগ্ধ হবেন, তা নিশ্চিত।
৭৯ বছর বয়সেও এখনো বেশ সুস্থ আছেন তিনি। হালকা গড়নের গো সেংকে এখনো তার বয়সের অনেকের চেয়েও চমৎকার দেখায়।
এই মাসের শুরুতে, ওহ’র জঙ্গল জীবনের গল্প ভাইরাল হয়ে যায় সিঙ্গাপুরে। সবাই চমকে উঠে তার গল্প শুনে। সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রশ্নও উঠে, কেন তাকে আরও সাহায্য করা হয়নি। ৩০ বছর ধরে কিভাবে তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে তার জীবন অতিবাহিত করেছেন তার প্রতিও আগ্রহী হয়ে উঠে মানুষ।
ওহ’র জঙ্গল বাসের গল্পের শুরুটা এক ক্রিসমাসের দিনে। নিজের উৎপাদিত শাকসবজি ও মরিচ বিক্রি করত বাজারে এসেছিলেন তিনি। এমন সময় তার থেকে ব্যবসার লাইসেন্স দেখতে চান কর্মকর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে যিনি জঙ্গলে বাস করে আসছেন তিনি কীভাবে লাইসেন্স দেখাবেন!
এরপরই বেরিয়ে এলো ওহ’র জঙ্গল বাসের গল্প। মহামারির কারণে বাজারের এক ফুলের দোকান থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন তিনি। গত ৩০ বছর ধরে যে তিনি জঙ্গলে বাস করে আসছেন তা কেউ জানত না।
ওহ মনে করেন, তার এই ঘটনা জানাজানির পেছনের কারণ এক অসন্তুষ্ট ক্রেতা। বাজারে আনা তার পণ্য কিনতে চান এক ক্রেতা। তার জন্য ১ সিঙ্গাপুর ডলার (০.৫৫ ডলার) দাবি করেন ওহ। কিন্তু এই দামে পণ্য কিনতে রাজি না হয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ওই ক্রেতা।
ওই মুহূর্তে, এক দাতব্য কর্মী পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখেন, কর্মকর্তারা তার সবজি বাজেয়াপ্ত করা নিয়ে কথা বলছেন। তাতে ‘রেগে’ যান ভিভিয়ান প্যান নামের ওই কর্মী। তিনি চাননি, দিনটি খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাক ওহ।
ভিভিয়ান বলেন, ‘কিন্তু আমি বুঝতে পারছিলাম, আইনের বিষয়ে। অবৈধভাবে কেউ রাস্তায় বেচাকেনা করতে পারে না।’
তিনি এই ঘটনা ভিডিও করে ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা খুব দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। সামনে চলে আছে ওহ’র জীবন দুর্দশাও। স্থানীয় সংসদ সদস্যেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করে ঘটনাটি।
তখন এমপি লিয়াং এং হায়া, শিগগিরই আবিষ্কার করেন ওহ’র আরও অজানা গল্প। জানা যায়, ৩০ বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে জঙ্গলে বাস করে আসছেন তিনি।
সুঙ্গেই তেনগাহ নামের সিঙ্গাপুরের এক ক্যাম্পং বা গ্রামের এক পরিবারে বেড়ে ওঠা ওহ’র। সেই গ্রাম এখন বিলীন হয়ে গেছে আকাশচুম্বী সব অট্টালিকার ভিড়ে। ক্যাম্পংয়ের অনেক বাসিন্দাদের সরকার নতুন আবাসন দিয়েছেন।
কিন্তু ওহ নিজের জন্য বাসস্থান পাননি। তার ভাইও এক সরকারি ফ্ল্যাট পেয়েছিলেন। ওহকে সেখানে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন থাকার জন্য। কিন্তু পরিবারের বোঝা হয়ে থাকতে চাননি তিনি।
এরপর যেখানে তার আগের ঘর ছিল তার পাশের এক জঙ্গলে বসবাস শুরু করে দেন ওহ। বাঁশ, তেরপল ও কাঠ দিয়ে নিজ হাতে বানানো এক কুঁড়েঘরে রাত যাপন করা শুরু করে দেন। সেখানেই রান্নাবান্না-খাওয়াদাওয়া। আর দিনে কাজ করতেন এক ফুলের দোকানে। নিজ বাসস্থানের পাশে ফলাতেন শাকসবজি।