পুতিনের সঙ্গে বসতে চান জেলেনস্কি

রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে চান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। দ্ ুদেশের মধ্যকার উত্তেজনার মধ্যেই এমন মন্তব্য করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কি বলেন, পুতিন আসলেই কী করতে চান তা জানতে এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্যই তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন তিনি। যদিও পুতিন এখনই জেলেনস্কির সঙ্গে আলাপ করবেন কি না, এমন কোনো ইঙ্গিত বা তথ্য প্রকাশ করেনি ক্রেমলিন।

জার্মানির মিউনিখে জাতীয় নিরাপত্তা সম্মেলনে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন জেলেনস্কি। সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমি জানি না রুশ ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট কী চান। আমি একটি বৈঠকের প্রস্তাব করছি। শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কূটনৈতিক পথ অনুসরণ অব্যাহত রাখবে কিয়েভ। এর আগে ইউক্রেন কোনো ধরনের উসকানিতে সাড়া দেবে না বলে মন্তব্য করেছেন জেলেনস্কি। তবে বিশ^ নেতাদের তিনি জানিয়েছেন, রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে নিজেকে রক্ষা করবে ইউক্রেন।

মিউনিখের ওই সম্মেলনেই যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইউক্রেনে হামলা চালালে রাশিয়ার ওপর নজিরবিহীন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। পাশাপাশি এ ঘটনায় ইউরোপের মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে বলেও জানান তিনি। সম্মেলনে ন্যাটোর প্রধান জেন্স স্টলটেনবার্গ বলেন, মস্কো ন্যাটোর মুখোমুখি হয়েছে। রাশিয়া ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার করেছেÑ এমন কোনো প্রামাণ নেই বলেও জানান তিনি।

রাশিয়া ও ইউক্রেন সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও পূর্ব ইউক্রেনে দেশটির সরকারি বাহিনীর সঙ্গে ইতিমধ্যেই সংঘর্ষে জড়িয়েছে রুশপন্থি বিদ্রোহীরা। চলমান এই সংঘর্ষের মধ্যে সেখানে এক দিনেই ১ হাজার ৪০০-এর বেশি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে এএফপি। পর্যবেক্ষক সংস্থার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে রুশ সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ইউক্রেনের সরকারি বাহিনীর হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ‘নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি’ পেয়েছে। পূর্ব ইউক্রেনের দনেতস্ক এবং লুহানস্ক অঞ্চলে কেবল শনিবারই ১ হাজার ৪০০-এর বেশি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে শনিবার পূর্ব ইউক্রেনে দেড় হাজারের বেশিবার অস্ত্র বিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে পৃথক এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে এএফপি। এক দিনের হিসাবে চলতি বছর এটি সর্বোচ্চ। ইউরোপে নিরাপত্তা ও সহযোগিতাবিষয়ক সংস্থা অর্গানাইজেশন ফর দ্য সিকিউরিটি অ্যান্ড কো-অপারেশন ইন ইউরোপের (ওএসসিই) পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি। ওএসসিই মূলত পূর্ব ইউরোপের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে থাকে। সংস্থাটি জানায়, পূর্ব ইউক্রেনে শনিবার ইউক্রেনের দুই সেনা নিহত ও চারজন আহত হয়েছেন।

এমন পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও একবার উসকে দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। তিনি বলেন, ১৯৪৫ সালের পর ইউরোপে ‘সবচেয়ে বড় যুদ্ধের’ পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। তারা যে এমন পরিকল্পনা করছে, সেই প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার মতে, সব ইঙ্গিত থেকে এটাই মনে হচ্ছে যে যুদ্ধের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে হয়তো কিছুক্ষেত্রে শুরুও হয়ে গেছে। গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও বলছেন যে রাশিয়া আক্রমণ শুরু করতে চায়। তারা ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভকে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ১ লাখ ৬৯ হাজার থেকে ১ লাখ ৯০ হাজারের মতো সেনা ইউক্রেন সীমান্তে মোতায়েন রেখেছে রাশিয়া।