ইউক্রেনের দুই রুশপন্থি অঞ্চলকে ‘স্বাধীন রাষ্ট্র’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার রাতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন এই ঘোষণা দেন। এদিন তিনি এ সংক্রান্ত ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরও করেন। বাকি আনুষ্ঠানিকতা দেশটির পার্লামেন্টে হবে।
রাশিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম আরটির এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন সিকিউরিটি কাউন্সিলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর দোনেৎস্ক ও লুগানস্ককে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেন।
এর আগে গতকালই একটি বিবৃতিতে ক্রেমলিন জানায়, পূর্ব ইউক্রেনের দুই রুশপন্থি অঞ্চলকে স্বাধীন হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন পুতিন। অদূর ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে লিখিত নির্দেশ দেবেন তিনি।
আবার সংবাদ সংস্থা এএফপির খবর, নিজের এই সিদ্ধান্তের কথা ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও জার্মানির চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎসকেও জানিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। কিন্তু টেলিফোন কথোপকথনে দুই দেশের প্রধানই অসম্মতি প্রকাশ করেছেন।
এদিকে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ অনেক দিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের মধ্যে একটি বৈঠক আয়োজনের সম্ভাবনা তৈরি করেছেন। ইউক্রেন সংকট নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করতে ‘নীতিগতভাবে’ সম্মত হয়েছেন বাইডেন। এ বৈঠকে সম্মত হয়েছেন কারণ, তিনিও নিজ দেশে ব্যাপক সমালোচনার মুখে একাধিক ব্যর্থতার জন্য। ট্রাম্পের আমলে যুক্তরাষ্ট্রের মিডিয়া বহু চেষ্টা করেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে কোনো তথ্য প্রমাণ জড়ো করতে পারেনি। এবার বাইডেন তাই রুশবিরোধিতা দিয়ে নিজের ইমেজ রক্ষা করতে চাইছেন।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক করার বিষয়ে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছেন বলে গতকাল ফরাসি প্রেসিডেন্টের দপ্তর জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এও বলা হয়েছে যে, ইউক্রেন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসার মতো পরিণত সময় এখনো আসেনি বলে মনে করছেন পুতিন। আর হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাশিয়া যদি তার প্রতিবেশী ইউক্রেনকে আক্রমণ না করে, তবেই শুধু বৈঠকটি হতে পারে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতেও এ শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মাত্র এই একটি শর্তকেই গুরুত্বপূর্ণ করে তোলার চেষ্টা করছেন বাইডেন ও ম্যাক্রোঁ। এখন দেখার বিষয় রাশিয়া এমন শর্তের বিপরীতে নতুন কোনো শর্ত যুক্ত করে নাকি এড়িয়ে যায়।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের আগেই নীতিগতভাবে জয়ী পুতিন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এবারই প্রথম পশ্চিমা নেতাদের ভিড় লেগেছে মস্কোতে। একের পর এক দেশের প্রধানরা মস্কোতে যাচ্ছেন রাশিয়াকে যুদ্ধ থেকে ফেরাতে। পুতিনও বুঝে গেছেন যে, ইউক্রেন হচ্ছে ইউরোপের ‘প্রেশার পয়েন্ট’। এই এক ইস্যুতে বহু রাষ্ট্রনায়ককে রাশিয়ার দুয়ারে আসতে হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে শর্ত বাইডেন নয়, পুতিন দিতে পারেন বলেন মনে করছেন অনেকে।
কয়েক দশকের মধ্যে ইউরোপের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকটের একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান এ বৈঠক থেকে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাইডেন ও পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন ম্যাক্রোঁ। তিনি ইউক্রেন সংকট নিয়ে বাইডেন ও পুতিনের মধ্যে বৈঠকের প্রস্তাব দেন। বাইডেন ও পুতিন উভয়ই বৈঠকের প্রস্তাবটি নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, দুই নেতার মধ্যকার বৈঠকে ইউরোপের নিরাপত্তা ও কৌশলগত স্থিতিশীলতা নিয়ে আলোচনা হবে। বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে শুরু হবে। এ বিষয়ে ফরাসি প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ নিজেদের মধ্যে বৈঠক করবেন। এ বৈঠকের সময় তারা বাইডেন ও পুতিনের মধ্যকার শীর্ষ বৈঠকের ক্ষেত্র প্রস্তুত করবেন। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউক্রেনে সামরিক অভিযান শুরু করতে রাশিয়া প্রস্তুত। রাশিয়া যেকোনো সময় ইউক্রেনে হামলা চালাতে পারে। তবে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এমন দাবি অস্বীকার করা হচ্ছে। মস্কোর ভাষ্য, সামরিক মহড়ার অংশ হিসেবে তারা সীমান্তে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। যুদ্ধ বাধানোর কোনো ইচ্ছা মস্কোর নেই।