বাংলা ভাষার মর্যাদা কমিয়ে ইংরেজিকে ব্যবহার করবেন না বলে জানিয়েছেন আইন বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি বলেছেন, ‘বাংলা ভাষা অত্যন্ত সমৃদ্ধিশালী ভাষা। এই ভাষাকে আরও ব্যবহার করে সকলে আরও সম্মান করে। সেই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ইংরেজি ভাষা ব্যবহারের সময় বাংলা ভাষা যেন প্রাধান্য পায়, সেই চেষ্টা করে যাব।’
গতকাল সোমবার সকালে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে আখাউড়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এমন কথা বলব না যে ইংরেজি ব্যবহার করব না, কারণ সারা বিশে^ চলতে হলে আমাদের ইংরেজি ব্যবহার করতে হবে, কিন্তু আমরা আমাদের ভাষার মর্যাদা কমিয়ে ইংরেজিকে ব্যবহার করব না। শহীদ দিবসে এটাই হোক আমাদের প্রত্যয়।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯৪৮ সালে সোনার বাংলার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলা আমাদের রাষ্ট্রভাষা হবে এই দাবি জানিয়েছিলেন। ১৯৫২ সালে তিনি যখন কারাগারে ছিলেন, তখন বাংলা ভাষা রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে শরিক হয়ে তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, জব্বারসহ আরও অনেকে নিহত হন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বায়ান্ন থেকে অনেক দূর এগিয়ে এসেছি। জননেত্রী শেখ হাসিনা একুশে ফেব্রুয়ারিকে সারা বিশ্বে মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সম্মান করার এবং স্বীকৃতি দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। এখন একুশে ফেব্রুয়ারি মাতৃভাষা হিসেবে সারা বিশ্বে স্বীকৃতি পেয়েছে।’
এদিকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আখাউড়ার ১১ জন সাংবাদিককে শুভেচ্ছা স্মারক সম্মাননা প্রদানের অংশ হিসেবে ৫ জনের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়। সম্মাননাপ্রাপ্ত সাংবাদিকেরা হলেন আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হান্নান খাদেম, আখাউড়া টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. জালাল হোসেন মামুন, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আব্দুল মমিন বাবুল, উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি মহিউদ্দিন মিশু।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বিশেষ অতিথি ছিলেন আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের টনকি গ্রামের ভাষাসৈনিক মিয়া মো. মতিন। এর আগে শহীদ দিবস উপলক্ষে রবিবার রাত ১২টা ১ মিনিটে উপজেলার শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করে উপজেলা প্রশাসন, আওয়ামী লীগ, আখাউড়া পৌরসভা, থানা পুলিশসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সাধারণ মানুষ।