সারা দেশে নিরবচ্ছিন্ন টেলিযোগাযোগ ও আধুনিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সুবিধা পৌঁছে দেওয়ার অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নত ও সম্প্রসারিত করা হবে। দেশে ফোরজি নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করে ফাইভজি চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই ধারাবাহিকতায় দেশে ফাইভজি চালুর প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেটের গতি অন্তত ১০০ জিবিপিএসে নেওয়ার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এ প্রকল্পে ব্যয় হবে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এটিসহ মোট ১০ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান। এসব প্রকল্পে ৮ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা ব্যয়ের অনুমোদন করেছে একনেক। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়নে ব্যয় হবে ৮ হাজার ৫১৫ কোটি ৮৭ লাখ, বৈদেশিক অর্থায়ন ১৬৭ কোটি ৪৫ লাখ ও সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ১২০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
ফাইভজির উপযোগী বিটিসিএলের অপটিক্যাল ফাইবার ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলার পাশাপাশি জেলা পর্যায়েও ইন্টারনেটের গতি ৩০০ জিবিপিএসে (গিগাবাইট পার সেকেন্ড) উন্নীত করার উদ্যোগটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করেছে বিটিসিএল। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদ্যমান অপটিক্যাল ফাইবার লাইনের উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির সক্ষমতা বাড়ানো হবে প্রকল্পটির আওতায়। এজন্য তিন হাজার কিলোমিটারের বেশি অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হবে।
বিটিসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্চগতির এ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা গেলে রাষ্ট্রায়ত্ত এ কোম্পানির কাছ থেকে অপটিক্যাল ফাইবার ব্যবহারের জন্য সেবা নেবে মোবাইল ফোন অপারেটর এবং ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) কোম্পানিগুলো।
দেশে বর্তমানে ৩৪ হাজার ১০০ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ অপটিক্যাল ফাইবার লাইন টানা আছে। এর মধ্যে প্রকল্পটির মাধ্যমে মাত্র তিন হাজার কিলোমিটার লুপ লাইন টেনে বিকল্প অপটিক্যাল ফাইবার স্থাপন করা হবে। এতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগের ব্যবস্থা করা যাবে।
প্রকল্প প্রস্তাবে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের উপযোগী অবকাঠামো গড়ে তুলতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংযোগ গড়ে তোলা, নির্ভরযোগ্যতা, ব্যান্ডউইথ ও ‘ল্যাটেন্সির’ (ডেটা প্রবাহে বাধা) মতো বিভিন্ন বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করতে হবে। ফাইভজি ছাড়া অন্য অনুমোদিত প্রকল্পগুলো হলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দুটি প্রকল্প যথাক্রমে ‘সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্প : জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা সড়ক (এন-৪) চার লেন মহাসড়কে উন্নতীকরণ (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প এবং ‘ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর প্রকল্প : সাপোর্ট টু ঢাকা (কাঁচপুর)-সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ এবং উভয় পাশে পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত)’ প্রকল্প; স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘১৫টি সরকারি হাসপাতালে হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্প এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নভোথিয়েটার, খুলনা স্থাপন’ প্রকল্প।
এছাড়াও মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘ইনটিগ্রেটেড কমিউনিটি বেইজড সেন্টার ফর চাইল্ড কেয়ার, প্রটেকশন অ্যান্ড সুইম-সেফ ফ্যাসিলিটিস’ প্রকল্প; পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বরগুনা জেলাধীন পোল্ডার ৪১/৬ এ, ৪১/৬ বি ও ৪১/৭ এ পুনর্বাসন এবং বেতাগী শহরসহ অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ অংশ বিষখালী ও পায়রা নদীর ভাঙন হতে প্রতিরক্ষা’ প্রকল্প ও ‘ভোলা জেলার মুজিবনগর ও মনপুরায় উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প; প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর-এ দুটি মর্ডান ফায়ার স্টেশন স্থাপন’ প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ, জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘স্মার্ট প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ইন ডিস্ট্রিবিউশন জোনস অব বিপিডিপি’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।