দেশে করোনার নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ কমায় এক মাস পর আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরেছে শিক্ষার্থীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গতকাল মঙ্গলবার থেকে দেশের সব মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান শুরু হয়েছে। প্রাথমিক স্তরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হবে আগামী ২ মার্চ থেকে। তবে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী করোনাভাইরাসের দুই ডোজ টিকা নেওয়া শিক্ষার্থীরাই কেবল প্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে পাঠ গ্রহণ করতে পারছে। অন্যরা অনলাইন ও টেলিভিশনের মাধ্যমে বাড়িতে বসে শিক্ষা গ্রহণ করবে।
এদিকে শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান শুরুর পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেছেন, ‘করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আর বন্ধ রাখতে চাই না। স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সচেতন থাকতে হবে।’ গতকাল নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রমের পাইলটিং কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
করোনা সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। দীর্ঘ ১৮ মাস পর গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনার নতুন ধরন ওমিক্রন সংক্রমণ বাড়তে থাকায় গত ২১ জানুয়ারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শ্রেণিকক্ষে সরাসরি পাঠদান ফের বন্ধ করে দেয় সরকার। সংক্রমণ কমায় এক মাস পর গতকাল থেকে আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরল শিক্ষার্থীরা। প্রাথমিকভাবে দশম ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন ক্লাস করবে এবং অন্যান্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পর্যায়ক্রমে সপ্তাহে দু’দিন করে সশরীরে শ্রেণিকক্ষে ক্লাস করবে।
তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ক্ষেত্রে মানতে হবে স্বাস্থ্যবিধি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য গত ২০ ফেব্রুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে ২০টি নির্দেশনা দিয়ে একটি আদেশ জারি করা হয়। মাউশির এসব নির্দেশনার মধ্যে রয়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের আনন্দঘন পরিবেশে শ্রেণি কার্যক্রমে স্বাগত জানানো, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা কীভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিষ্ঠানে অবস্থান করবে ও বাসা থেকে যাওয়া-আসা করবে সে বিষয়ে তাদেরকে ব্রিফ করা, প্রতিষ্ঠানের একটি কক্ষে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ আইসোলেশন কক্ষ হিসেবে প্রস্তুত রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশমুখসহ অন্যান্য জায়গায় কডিড-১৯ মহামারী সম্পর্কিত সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালনে করণীয় বিষয়গুলো ব্যানার বা অন্য কোনো উপায়ে প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রবেশপথে সব শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্রের মাধ্যমে নিয়মিত তাপমাত্রা মাপা ও তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রাখা, পরিস্থিতি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্র্তৃপক্ষ কর্র্তৃক অনলাইন/ভার্চুয়ালি শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখা, শিক্ষার্থীদের জন্য বিতরণ করা অ্যাসাইনমেন্টগুলোর কার্যক্রম যথারীতি অব্যাহত রাখা, আগের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের ক্লাস রুটিন তৈরি, শিক্ষার্থীদের ভিড় এড়ানোর জন্য প্রতিষ্ঠানের সবগুলো প্রবেশপথ ব্যবহার এবং একটি প্রবেশপথ থাকলে একাধিক পথের ব্যবস্থা করা, প্রতিষ্ঠানের সব ভবনের কক্ষ, বারান্দা, সিঁড়ি, ছাদ ও আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, প্রতিষ্ঠানের সব ওয়াশরুম নিয়মিত সঠিকভাবে পরিষ্কার ও পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রাখা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারী-অভিভাবকসহ অন্যদের প্রবেশ/অবস্থান/প্রস্থানের সময় সরকার ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে প্রতিপালন, সব শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানে সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রাখা, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের বসার ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ, প্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ, ড্রেন ও বাগান যথাযথভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা ও কোথাও যেন পানি জমে না থাকে তা নিশ্চিত করা, প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতির সংখ্যা নিরূপণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনন্দঘন শিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে শ্রেণিকক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটি ও অভিভাবকদের সঙ্গে সভা করে এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছে মাউশি।