ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন কারিকুলামের পাইলটিং শুরু

দেশের ৬২টি মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নতুন কারিকুলামে (শিক্ষাক্রম) পাঠদান শুরু হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার সকালে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মিলনায়তন থেকে এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত করে নতুন কারিকুলামের পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী, নতুন পাঠ্যবইয়ে পাঠদান শুরু করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫১টি মাধ্যমিক স্কুল, ৯টি মাদ্রাসা ও ২টি কারিগরি প্রতিষ্ঠান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যুক্ত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী।

এনসিটিবি থেকে পাওয়া তথ্যমতে, চলতি বছর পরীক্ষামূলকভাবে চালুর পর ২০২৩ সালে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে, ২০২৪ সালে তৃতীয়, চতুর্থ, অষ্টম ও নবম শ্রেণিতে এবং ২০২৫ সালে পঞ্চম ও দশম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। উচ্চমাধ্যমিকের একাদশ শ্রেণিতে ২০২৬ সালে এবং দ্বাদশ শ্রেণিতে ২০২৭ সালে নতুন শিক্ষাক্রম চালু করার সময়সীমা ঠিক করা হয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের ব্যবস্থায় বড় রকমের পরিবর্তন হবে। প্রাক-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিদ্যমান পরীক্ষার চেয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধারাবাহিক মূল্যায়ন (শিখনকালীন) বেশি হবে। এর মধ্যে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা হবে না, মূল্যায়ন হবে সারা বছর ধরে চলা বিভিন্ন রকমের শিখন কার্যক্রমের ভিত্তিতে। পরবর্তী শ্রেণিগুলোর মূল্যায়নের পদ্ধতি হিসেবে পরীক্ষা ও ধারাবাহিক শিখন কার্যক্রম দুটিই থাকছে। আর দশম শ্রেণির আগপর্যন্ত কোনো পাবলিক পরীক্ষা না নেওয়ার কথা রয়েছে এ শিক্ষাক্রমে।

নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, ২০২৪ সাল থেকে মাধ্যমিক শিক্ষায় আলাদা কোনো বিভাগ থাকছে না। এখন নবম শ্রেণিতে যেভাবে বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বেছে নিতে হয়, শিক্ষার্থীদের সেরকম কোনো ভাগ তখন আর থাকবে না। দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে অভিন্ন ১০টি বিষয় পড়তে হবে। বিভাগ বিভাজন হবে উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে।

নতুন শিক্ষাক্রমের পরীক্ষামূলক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘নতুন শিক্ষাক্রমে শিক্ষার্থীরা নিজেরা করে করে শিখবে। শিক্ষার্থীরা দক্ষ, যোগ্য ও মানবিক বোধসম্পন্ন হয়ে গড়ে উঠবে।’ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের কোথায় কোথায় সমস্যা আছে, তা জানাতে শিক্ষক, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আবু বকর ছিদ্দিক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক মশিউজ্জামান।