দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সোভিয়েত সরকার ক্রিমিয়া থেকে তাতারদের বিতাড়িত করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে ৪৫ বছর পর ক্রিমিয়ায় ফিরতে সক্ষম হন তারা। রাশিয়া ২০১৪ সালে ক্রিমিয়া দখল করলে ফের দেশ ছাড়তে হয় তাতারদের। ইউক্রেন-রাশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনায় আবার অনিশ্চয়তায় পড়েছেন তারা। লিখেছেন তৃষা বড়ুয়া
ইতিহাসের বইয়ে ক্রিমিয়ার তাতার মুসলমানদের নিয়ে অনেক ঘটনা উল্লেখ রয়েছে। তবে তাদের জীবন ইতিহাসে উল্লিখিত ঘটনাবলির চেয়ে আরও অনেক বেদনার। মাতৃভূমি বারবার ছাড়তে হয়েছে এই জাতিকে। তাতার জাতির সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তিদের এখনো ১৯৪৪ সালে নিজের মাতৃভূমি থেকে পুরো গোষ্ঠীর বিতাড়নের মর্মান্তিক স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়ায়। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের শাসক জোসেফ স্ট্যালিনের নির্দেশে মাত্র ৩০ মিনিটের নোটিসে বাপ-দাদার ভিটেমাটি ছেড়ে রাশিয়ার বিস্তীর্ণ পর্বতমালা, সাইবেরিয়া ও মধ্য এশিয়ার দেশগুলোতে পাড়ি দেয় শিশুসহ প্রায় দুই লাখ তাতার নারী ও পুরুষ। এদের প্রায় অর্ধেকই পথে বা গন্তব্যস্থানে পৌঁছার পরপরই মারা যায়। ওই বছরের এপ্রিলে জার্মানির যুদ্ধবাজ নাৎসি নেতা অ্যাডলফ হিটলার সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নভুক্ত উপদ্বীপ ক্রিমিয়া দখল করে। তাতারদের বিরুদ্ধে সোভিয়েত ইউনিয়নের অভিযোগ ছিল, দখলে থাকার সময় জার্মানির নাৎসি শাসকগোষ্ঠীদের বড় ধরনের সহযোগিতা করে তারা। ইউক্রেনসহ চার দেশ ওই বিতাড়নকে ‘গণহত্যা’ হিসেবে উল্লেখ করে।
তাতার কারা
তুর্কি জাতিগোষ্ঠী তাতার মুসলমানরা মূলত ইউরোপের ক্রিমিয়া উপদ্বীপের আদিবাসী। ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দীতে তৌরি, এসসাইথিয়ান, সারমাটিয়ান, অ্যালান, গ্রিক, গথ, বুলগার, খাজার, পিচেনেগ, ইতালিয়ান, সারকাশিয়ানসহ কয়েকটি গোষ্ঠী তাতার জাতি গড়তে ভূমিকা রাখে। সাংস্কৃতিকভাবে বৈচিত্র্যপূর্ণ এসব গোষ্ঠী একত্র হয়ে একক জাতি গঠনে কয়েক শতাব্দী লেগে যায়। ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষের দিকে ক্রিমিয়ার সবচেয়ে বড় জাতিতে পরিণত হন তাতাররা। ১৯৪৪ সালের মে মাসে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অক্ষ জোট জার্মানি, ইতালি ও জাপানের কাছ থেকে ক্রিমিয়া ফের দখল করে সোভিয়েত ইউনিয়ন। দখলের পরপরই সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা কমিটি ক্রিমিয়া থেকে সব তাতারকে বিতাড়িত করার নির্দেশ দেয়। এমনকি সোভিয়েত সেনাবাহিনী রেড আর্মিতে কর্মরত তাতারদেরও দেশ ছেড়ে চলে যেতে বলা হয়। বিতাড়িতদের ট্রেন ও মালগাড়িতে করে মধ্য এশিয়া বিশেষ করে উজবেকিস্তানে পাঠানো হয়। যাদের ট্রেন বা মালগাড়িতে জায়গা হয়নি, তারা ঘোড়ার গাড়িসহ অন্য গাড়িতে চড়ে দেশত্যাগ করেন। এই স্থানান্তরের সময় ১৮ থেকে ৪৬ শতাংশ তাতার মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৮৯ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের সবচেয়ে কর্র্তৃত্ববাদী আইনপ্রণয়নকারীরা ক্রিমিয়া থেকে তাতারদের বিতাড়নকে ‘অমানবিক ও বেআইনি’ হিসেবে নিন্দা জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও আন্তর্জাতিক আদিবাসী সংগঠনগুলো তাতারদের আদিবাসী হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০১৪ সালে ইউক্রেনের আদিবাসী জনগোষ্ঠী হিসেবে তাতারদের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়। রাশিয়ার বর্তমান সরকার তাতারদের আদিবাসী নয় বরং সংখ্যালঘু হিসেবে বিবেচনা করে। ক্রিমিয়ার জনসংখ্যার প্রায় ১৫ শতাংশ এখন তাতারদের নিয়ে গঠিত। তুরস্ক ও উজবেকিস্তানে তাতারদের বড় অংশ বাস করে।
তাতার প্রভাব
পঞ্চদশ শতাব্দীতে ক্রিমিয়া তাতাররা শাসন করতেন। রাশিয়ার সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ও সহযোগিতার সম্পর্ক ছিল। এমনকি রুশ ও তাতার নারী-পুরুষের মধ্যে বিয়ের চলও ছিল। এতে পারস্পরিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের আদান-প্রদান জোরালো হয়। পরে অবশ্য রাজনৈতিক কারণে দুই পক্ষের মধ্যে অবিশ্বাস দানা বাঁধে। যুক্তরাষ্ট্রের আমেরিকান বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক এরিক লোহর জানান, মানচিত্রে ক্রিমিয়ার তাতারদের প্রথম ঠাঁই হয় ১২৪১ সালের দিকে। চেঙ্গিস খানের নাতি বাটু খান ক্রিমিয়া দখল করার পর মানচিত্রে উপদ্বীপটির দেখা মেলে। দখলের পর ক্রিমিয়াকে মঙ্গোল সাম্রাজ্যের কৌশলগত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলেন বাটু খান। একই সঙ্গে উদীয়মান প্রভাবশালী রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্কও স্থাপন করেন তিনি। লোহর বলেন, ‘সে সময় ক্রিমিয়ার ব্যবসায়ীরা রাশিয়ায় দোকান-পাট খুলে জেঁকে বসেছিলেন। দেশটির কিটাই গরদ নামক জেলায় মূলত তারা বসবাস করতেন। ওই জেলার নাম এখনো অপরিবর্তিতই রয়েছে।’ অটোমান শাসকদের ক্রীতদাসও সরবরাহ করতেন তাতাররা। মূলত ইউক্রেনের স্তেপ অঞ্চল ও রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চল থেকে এসব ক্রীতদাস অটোমান সাম্রাজ্যে পাঠানো হতো। ইউক্রেনের এক লোকসংগীত এমন ‘নদীর পেছনে দাউ দাউ আগুন জ্বলছে, তাতাররা তাদের বন্দিদের আলাদা করছেন, আমাদের গ্রাম পুড়ছে আর আমাদের সম্পদ লুট হচ্ছে।’ ১৭৮৩ সাল পর্যন্ত তাতাররা ক্রিমিয়া শাসন করেন। অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে সফল যুদ্ধের পর ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করেন রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী ক্যাথরিন দ্য গ্রেট। নিজের সাম্রাজ্য আরও সম্প্রসারিত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রিমিয়া দখল করেন তিনি। সে সময় তাতারদের বড় একটি অংশ তুরস্কে চলে যায়। ১৮৫৩ সালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও অটোমান সাম্রাজ্য যুদ্ধে লিপ্ত হয়, যা ক্রিমিয়ান যুদ্ধ নামে পরিচিত। সে সময় আরও তাতার তুরস্কে পাড়ি জমান।
১৯১৭ সালে রাশিয়ায় বলশেভিকদের রেড আর্মির বিরুদ্ধে হোয়াইট আর্মির গৃহযুদ্ধ বাধে। ক্রিমিয়া ছিল হোয়াইট আর্মির শেষ প্রতিরোধ অঞ্চল। ১৯১৭ সালে রাশিয়ায় অক্টোবর বিপ্লবের পর বলশেভিকদের দমন-পীড়নের শিকার হন তাতাররা। সোভিয়েত শাসনের জোরপূর্বক যৌথ মালিকানা ব্যবস্থার অংশ ছিল ক্রিমিয়াও। যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের হুভার ইনস্টিটিউশনের গবেষক পল গ্রেগরি জানান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের আগে থেকেই সন্দেহভাজন জাতীয়তাবাদীদের বিতাড়ন প্রক্রিয়া শুরু করেন সোভিয়েত নেতা জোসেফ স্ট্যালিন। ১৯৪৪ সালের ১৩ এপ্রিল ক্রিমিয়ায় বসবাসরত সোভিয়েতবিরোধীদের দেশছাড়া করার সিদ্ধান্ত নেয় স্ট্যালিন সরকার। ক্রিমিয়ার তাতারতের জন্য ওই সিদ্ধান্ত ছিল বড় ধরনের আঘাত। সোভিয়েত সরকারের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে তাতারদের দুর্দশা শুরু হয়।
দেশে প্রত্যাবর্তন
ক্রিমিয়ার রাজধানী সিমফেরোপোলের বাসিন্দা চুবারভ বলেন, ‘১৯৪৪ সালে ক্রিমিয়ার আয়-সেরেজ গ্রামে বাস করতেন আমার ১৩ বছর বয়সী বাবা ও ১১ বছর বয়সী মা। বিতাড়নের সিদ্ধান্ত শোনার পর তারা দুজনই উজবেকিস্তান চলে যান। আমার মা-বাবাকে সেখানে অনেক পরিশ্রম করে জীবিকা অর্জন করতে হয়। কোনো এক দিন দেশে ফিরতে পারবেন, দেশে ফিরে বাড়ি কিনতে পারবেন এই আশায় আমার মা-বাবা টাকা জমাতেন। ১৯৬৮ সালে শুধু ৩০০ পরিবারকে ক্রিমিয়ায় ফেরায় সোভিয়েত সরকার। সেই ৩০০ পরিবারের মধ্যে আমার পরিবারও ছিল। আসলে বিশ্বকে সোভিয়েত সরকার দেখাতে চেয়েছিল, তারা বিতাড়িত সব তাতারকে দেশে ফেরাচ্ছে। এটা ছিল তাদের প্রোপাগা-ার অংশ। সব নয়, শুধু ৩০০ পরিবারের মাতৃভূমিতে ফেরার সৌভাগ্য হয়।’ ১৯৯০ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন পতনের সময় ক্রিমিয়া উপদ্বীপ ইউক্রেনের অংশে পরিণত হয়। তাতাররা তখন দেশে ফিরতে সক্ষম হন। দুঃখ-ভারাক্রান্ত হৃদয়ে চুবারভ বলেন, ‘অনেক তাতার সে সময় দেশে ফিরতে পারেননি। কারণ আমার দাদা-দাদিসহ অনেকে উজবেকিস্তানেই মারা যান। তাদের সেখানেই কবর দেওয়া হয়েছিল।’ ১৯৪৪ সালের বিতাড়নের সময় ইরফান কুদোসভের বয়স ছিল ২০-এর কোটায়। ৪৫ বছরেরও বেশি সময় পর নব্বই দশকে ক্রিমিয়ায় ফেরেন তিনি। কুদোসভ বলেন, ‘প্লেন থেকে নেমে বয়স্ক তাতাররা মাতৃভূমিতে মাথা ঠেকিয়ে চুমু খান। অবশেষে দেশে ফিরতে পেরেছেন এই খুশিতে তাদের চোখ ভিজে যায়।’
অবশ্য দেশে ফেরা তাতারদের সবার অভিজ্ঞতা সুখকর ছিল না। অনেকে নিজের বাড়িতে থাকতে পারেননি। কারণ সেখানে বসবাস করছে জাতিগত রুশরা। অনেককে বাড়ি কিনতে বা ভাড়া নিতে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। কিয়েভের বাসিন্দা অনুবাদক ৩৪ বছর বয়সী জাখিদা কাতাকি বলেন, ‘দেশে ফিরে আমার দাদি তার বাড়ি যান। বাড়ির নতুন মালিক তাকে দেখে বেরিয়ে আসেন। দাদির পরিচয় পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি দুর্ব্যবহার করে তাকে তাড়িয়ে দেন।’ এ ছাড়া চল্লিশের দশক থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত সরকার তাতারদের ‘নাৎসির দালাল’ তকমা দেওয়ায় ৪৫ বছর পরও দেশে ফিরে তাদের আড়ালে-আবডালে ‘দালাল’ ডাকা হতো। তাতারদের তখন নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করতে বেশ কটি উদ্যোগ নেওয়া লাগে। যেমন : ১৯৯১ সালে ‘মেজলিস’ নামের প্রতিনিধি কমিটি গঠন করেন তারা। এ ছাড়া সোভিয়েত শাসনামলে তাতান ভাষাশিক্ষা নিষিদ্ধ ছিল। দেশে ফেরার পর নিজেদের ভাষার স্কুল খোলেন তাতাররা। নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে তাতাররা পড়লেও মাতৃভূমির জন্য একপর্যায়ে প্রতিকূলতা সামলিয়ে উঠতে সক্ষম হন তারা। ভিন দেশে অনিশ্চয়তার মধ্যে নাগরিকহীন হয়ে থাকতে হচ্ছে না আর এটাই ছিল তাতারদের সবচেয়ে বড় স্বস্তির জায়গা।
রাশিয়ার দখল
ইরফান কুদোসভসহ হাজার হাজার তাতারের স্বস্তি অবশ্য বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। বিতর্কিত ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রত্যাখ্যাত গণভোটের পর ২০১৪ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ক্রিমিয়া দখল করে। কুদোসভের শঙ্কা হয়, ১৯৪৪ সালের বিতাড়নের মতো একই ধরনের বৈষম্য ও নিপীড়নের মুখে পড়তে হতে পারে তাকে। এই আশঙ্কার জায়গা থেকে তিন লাখ তাতারের সঙ্গে তিনিও গণভোট বয়কট করেন। তাদের ওই কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ দখলদার রুশ বাহিনী তাতার ও ইউক্রেনপন্থি অধিকারকর্মীদের ওপর চড়াও হয়। শুরু হয় দমন-পীড়ন। ২০১৪ সালের ৩ মার্চ রাজধানী সিমফেরোপোলের বাসিন্দা রেশাত আমেতভকে কয়েকজন সামরিক পোশাক পরা ব্যক্তি তুলে নিয়ে যায়। পরে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় তার লাশ পাওয়া যায়। এটা ছিল ক্রিমিয়ার প্রথম গুমের ঘটনা। পরে এমন ঘটনা আরও ঘটে। রুশ বাহিনীর কর্মকাণ্ডে আতঙ্কিত কুদোসভ স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে ক্রিমিয়া ত্যাগ করেন। পরিবার নিয়ে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে নতুন জীবন শুরু করেন তিনি। একটি রেস্তোরাঁ খোলেন সেখানে। শুধু কুদোসভই নন, প্রাণ বাঁচাতে তার মতো অনেক তাতার আরও একবার দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১৪ সালের পর প্রায় ১০ শতাংশ তাতার ক্রিমিয়া থেকে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে স্থানান্তর হয়। ক্রিমিয়া দখলের একপর্যায়ে রুশ কর্র্তৃপক্ষ তাতারদের প্রতিনিধি কমিটি মেজলিসকে ‘চরমপন্থি’ আখ্যায়িত করে তাদের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করে। তাতারদের একটি টেলিভিশন চ্যানেলেও সে সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নতুন অনিশ্চয়তা
নতুন দেশে একটু ভালোভাবে থাকার চেষ্টারত তাতাররা আবার অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। ক্রিমিয়া দখলের সাত বছর পর সম্প্রতি ইউক্রেনের বিষয়ে যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছেন পুতিন। ইউক্রেন সীমান্তে লাখখানেক সেনা মোতায়েন করেছেন তিনি। এদিকে ইউক্রেনে হামলা হলে রাশিয়াকে কড়া জবাব দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেছে যুক্তরাষ্ট্রসহ ন্যাটোভুক্ত দেশগুলো। ইউক্রেন সরকারও রাশিয়াকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধের অঙ্গীকার করেছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের অন্যান্য শহর থেকে ফের উচ্ছেদ হতে হয় কি না এই আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন দেশটিতে বসবাসরত তাতাররা।
অবশ্য অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটালেও কুদোসভের বিশ্বাস, ২০১৪ সালের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। রাশিয়াকে ঠেকানোর পর্যাপ্ত শক্তি রয়েছে এই বাহিনীর। তিনি এও মনে করেন, এক দিন না এক দিন ইউক্রেনের হাতে ক্রিমিয়াকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। কুদোসভ বলেন, ‘তাতাররা অবশ্যই ক্রিমিয়ায় ফিরবেন। আমার দাদা-দাদিদের বিতাড়ন করা হয়েছিল। পরদেশে ৪৫ বছরের বেশি বিতাড়িত জীবন কাটান তারা। সব সময় তারা আমাকে দেশে ফেরার কথা বলতেন। অনেক দেরিতে হলেও আমরা নিজের দেশ ক্রিমিয়ায় ফিরি। এখন ইউক্রেনে থাকতে বাধ্য হলেও এক দিন আবার আমরা দেশে ফিরব।’
কিয়েভে আরেক বাসিন্দা সরিনা সেইতভেলিয়েভও মনে করেন, শেষ পর্যন্ত ইউক্রেনের অঙ্গীভূত হবে ক্রিমিয়া। কারণ ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখলে রাখা রাশিয়ার জন্য অনেক ব্যয়বহুল। ক্রিমিয়ায় অবকাঠামো খাতে রাশিয়ার বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে ক্রিমিয়াকে যুক্ত করতে ব্যয়বহুল ১৯ কিলোমিটার দীর্ঘ সেতু নির্মাণ করে রাশিয়া সরকার। এ ছাড়া মহাসড়ক, হাসপাতাল, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইন নির্মাণে অর্থ যাচ্ছে রুশ সরকারের পকেট থেকেই। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদ ড্যানিয়েল এহন ও রডনি লুডেমা জানান, ক্রিমিয়া দখলের পর রাশিয়ার ওপর যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এতে রাশিয়ার জিডিপির ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। এ মুহূর্তে প্রায় চার লাখ মুসলমান ইউক্রেনে বসবাস করছে, যাদের বেশির ভাগই তাতার।