বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে ষড়যন্ত্র ছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি অভিযোগ করে বলেছেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় সেনাতদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না করার পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে। কারণ বিডিআর ঘটনা শুধু একটা বিদ্রোহ ছিল না।’
গতকাল শুক্রবার বনানী সেনা কবরস্থানে বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনাসদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল পিলখানার ঘটনায় নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন জানায়। এ সময় নিহতের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পরে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘১৩ বছর আগে ২০০৯ সালের এই দিনে বিডিআর বিদ্রোহে প্রাণ হারান ৫৭ সেনাসদস্যসহ ৭৪ জন। এর পেছনে মূল কারণ ছিল সেনাবাহিনীর মনোবল ভেঙে দেওয়া। আজকে দুর্ভাগ্য আমাদের, এত বছর পরও আমরা কিন্তু তদন্ত করে যে প্রকৃত সত্য বের করে আনার প্রয়োজন ছিল তা পারিনি। বিডিআর বিদ্রোহের পেছনে কারা ছিল, কেন এ ঘটনাগুলো ঘটিয়েছিল?’
তিনি বলেন, ‘বিডিআর বিদ্রোহ গোটা জাতির জন্য অত্যন্ত শোকাবহ দিন এবং একই সঙ্গে একটা আতঙ্কের দিন। এজন্য যে, এই দিনে ঘটনা-দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে, এই বিদ্রোহের মধ্যে দিয়ে আমাদের জাতির সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ সম্পদ সেনাবাহিনীর এই ৫৭ কর্মকর্তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থাকে সম্পূর্ণভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। অথচ আমাদের স্বাধীনতার যুদ্ধেও এত সেনা কর্মকর্তা শহীদ হননি।’
বিএনপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হাসান নাসির, অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর মিজানুর রহমান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সারোয়ার হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমএ হাসান, অবসরপ্রাপ্ত মেজর কোহিনুর আলম নূর, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আজিজ রেজা, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, বিএনপি নেতা শামীমুর রহমান শামীম, বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শায়রুল কবির খান।
পরে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাতীয় পার্টি (কাজী) মহাসচিব আহসান হাবিব লিংকন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির সভাপতি ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, মহাসচিব মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তফা, ডিএলের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির আবু তাহের প্রমুখ নেতারাও আলাদাভাবে নিহতদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।