ক্ষমতাধররা কেবল দেখছে, একা লড়ছি আমরা : জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি যিনি দেশটিতে এক সময় কমেডিয়ান হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন, তার সব ভরসা ছিল পশ্চিমাদের প্রতি। প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই পশ্চিমা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে একাধিক চুক্তি ছাড়াও প্রতিবেশী দেশ রাশিয়াকে পাশ কাটিয়ে সীমান্ত সমস্যা মোকাবিলায় ইউরোপের সমারিক জোট ন্যাটোতে প্রবেশের চেষ্টা করে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু তিনি ভুলে গিয়েছিলেন, তিনি যে চেয়ারে বসে আছেন সেই চেয়ারে অনেক পরিবর্তনের সাক্ষী প্রতিবেশী রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পশ্চিমা যেসব দেশকে মিত্র বলে ভেবেছিলেন, তাদের একটিকেও পাশে পাচ্ছেন না ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাই রাশিয়ার হামলা থামাতে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াতে মিত্র দেশগুলোর প্রতি আবারও আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। কিন্তু এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে কোনো রাষ্ট্রপ্রধানকেই বক্তব্য বা বিবৃতি দিতে দেখা যায়নি। গতকাল শুক্রবার সকালে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আজ সকালে আমরা একা আমাদের দেশকে রক্ষার জন্য লড়াই করছি। গতকালের মতোই বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশগুলো দূর থেকে কেবল সবকিছু দেখে যাচ্ছে।’

রাশিয়ার ওপর ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, তাইওয়ানসহ বিভিন্ন দেশ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড এর মধ্যেই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। তবে এসব নিষেধাজ্ঞায় রাশিয়ার কিছু আসে-যায় বলে মনে করছেন না জেলেনস্কি। তাই তিনি প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ‘গতকালের নিষেধাজ্ঞায় কি রাশিয়ার ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে? আমরা আকাশে যে শব্দ শুনছি ও যা দেখছি তাতে মনে হচ্ছে নিষেধাজ্ঞা যথেষ্ট নয়।’

শুক্রবার ভোরেও ইউক্রেনে বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। জেলেনস্কি বলেন, ‘আজ ভোর ৪টার দিকে এসব হামলা শুরু হয়। রাশিয়া সেনাবাহিনী ও বেসামরিক দুই পক্ষকেই লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। যদিও এর আগে রাশিয়া বলেছিল তারা বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালাবে না। আজ সকালে কিয়েভে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণ হয়েছে। এর মধ্যে একটি আবাসিক ভবনেও বিস্ফোরণ হয়েছে।’

ভিডিও বার্তায় যুদ্ধবিরতির জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি বলেন, ‘সহিংসতা নিরসনে ও হামলা বন্ধের জন্য রাশিয়াকে আমাদের সঙ্গে কথা বলতেই হবে। সেটা এখন হোক বা পরে। যত তাড়াতাড়ি আলোচনা শুরু হবে, রাশিয়ার ক্ষতি তত কম হবে। হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা আমাদের দেশ রক্ষার চেষ্টা চালিয়ে যাব।’ এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে জেলেনস্কি বলেন, ‘এখন রাশিয়ার এক নম্বর লক্ষ্য হলো কিয়েভে হামলা করা। তবে কিয়েভ ছেড়ে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা আমার নেই।’

জেলেনস্কির ফোনে সাড়া দেননি পুতিন : দ্বিতীয় দিনের মতো ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আক্রমণ চালিয়েছে রুশ সেনারা। তীব্র লড়াই চলছে রুশ সেনাবাহিনী ও ইউক্রেনের সেনাদের সঙ্গে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ নাগরিকদের ওপর হামলা চালানো বন্ধে বারবার অনুরোধ জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। খবর পাওয়া গেছে আগ্রাসন বন্ধে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ফোন করেছিলেন তিনি, কিন্তু তাকে পাননি।

পরে ইউক্রেনে যুদ্ধ থামাতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে ফোন করেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি জানান, ইউক্রেনের নেতারা তাকে পুতিনের সঙ্গে যোগাযোগ জেলেনস্কির ফোনে সাড়া দেননি পুতিন করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘ফ্যাঙ্ক’ ফোনকলে পুতিনকে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। ব্রাসেলসে ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের পর ম্যাক্রোঁ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এদিকে, রাশিয়ার সেনারা কিয়েভ থেকে ২০ মাইলের মধ্যে অবস্থান নিয়েছে বলে বাইডেন প্রশাসনের তরফে বলা হয়েছে।

ইউক্রেনে সহিংসতা বন্ধে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি কূটনৈতিক আলোচনা এবং সংলাপের পথে ফিরে আসার জন্য সব পক্ষ থেকে সমন্বিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে। ইউক্রেনে হামলা বন্ধের আহ্বান জানান নরেন্দ্র মোদি। এর আগে, বৃহস্পতিবার দিল্লিতে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ইগর পোলিখা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে শান্তি ফেরাতে মধ্যস্থতা করার আহ্বান জানান বলে ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে নরেন্দ্র মোদিকে অবহিত করেন।