ব্যাংকিং সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার সাশ্রয়ী সমাধান এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে লেনদেন বাড়ছে দ্রুতগতিতে। করোনা মহামারীতে ব্যাংক শাখার ভিড় এড়াতে অনেক গ্রাহক ছোটখাটো লেনদেন সেরে নিচ্ছেন এজেন্ট আউটলেটগুলোতে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২১ সালে এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোর মাধ্যমে ৪ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা লেনদেন করেন এ খাতের গ্রাহকরা। ২০২০ সালে এই লেনদেন ছিল ২ লাখ ৯৩ হাজার ৩৮ কোটি টাকা। সেই হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে এক বছরে লেনদেন বেড়েছে ৫৭ দশমিক ২৮ শতাংশ বা ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫৭ কোটি টাকা।
এছাড়া এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটগুলোর মাধ্যমে গত এক বছরে ৪৪ লাখ নতুন হিসাব খুলেছেন গ্রাহকরা। আমানত বেড়েছে ৮ হাজার ৩৬৮ কোটি টাকা।
বর্তমানে ২৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংক ১৩ হাজার ৯৫১টি এজেন্টের আওতায় ১৯ হাজার ২৪৭টি আউটলেটের মাধ্যমে এ সেবা দিচ্ছে। এগুলোর মধ্যে ১৬ হাজার ৫৯৩টিই গ্রামাঞ্চলে সেবা কাজ পরিচালনা করছে। ২০২১ সালে ব্যাংকগুলোর এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট বেড়েছে ৩ হাজার ৩৩৯টি।
মূলত যেসব এলাকায় ব্যাংকের কোনো শাখা নেই বা শাখার মাধ্যমে ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা অধিক ব্যয়বহুল ও লাভজনক নয়, সেসব এলাকায় ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে দিতেই এই সেবা চালু করা হয়। ২০১৩ সালের ৯ ডিসেম্বর এজেন্ট ব্যাংকিং নীতিমালা জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি চালু হয় এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, আউটলেট সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগে। ঢাকায় মোট আউটলেট ৪ হাজার ৭৫৭টি। এর পরই ৪ হাজার ৮১টি আউটলেট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম। এ ছাড়া খুলনায় ২ হাজার ৩৯৬, রাজশাহীতে ২ হাজার ৩৭২, রংপুরে ২ হাজার ১৯, বরিশালে ১ হাজার ২৭৬, সিলেটে ১ হাজার ১৮১ ও ময়মনসিংহে ১ হাজার ১৬৫টি আউটিলেট রয়েছে।
বর্তমানে ২৯টি ব্যাংক এ সেবা চালু করেছে। ব্যাংক এশিয়া প্রথম কার্যক্রম শুরু করলেও বর্তমানে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে শীর্ষে রয়েছে ডাচ্-বাংলা ব্যাংক। ব্যাংকটির এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আউটলেট সংখ্যা ৫ হাজার ৫০৩টি। এর পরের অবস্থানে আছে ব্যাংক এশিয়া। ব্যাংকটির এজেন্ট আউটলেট ৪ হাজার ৮৯৮টি। তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইসলামী ব্যাংকের আউটলেট ২ হাজার ৬৭৬। এরপর সিটি ব্যাংকের ১ হাজার ১৮২ ও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের ৫৭২টি আউটলেট রয়েছে।
২০২১ সালের ডিসেম্বর শেষে এজেন্ট ব্যাংকে হিসাব সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ ৪৭ হাজার ৩৯৬টি। এসব হিসাবে আমানতের পরিমাণ ২৪ হাজার ৫৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ১৯ হাজার ৪৩ কোটি টাকা এবং গ্রামাঞ্চলে ৫ হাজার ১১ কোটি টাকার আমানত রয়েছে। ২০২০ সালে আমানত ছিল ১৫ হাজার ৬৮৭ কোটি টাকা। সে হিসাবে এক বছরে আমানত বেড়েছে ৮ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা।
আমানতের পাশাপাশি ঋণ বিতরণও বেড়েছে। এ সময়ে ৫৫২ কোটি ৪০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে শহরাঞ্চলে ৩৫৪ কোটি ২০ লাখ এবং গ্রামাঞ্চলে ১৯৮ কোটি ২০ লাখ টাকা। ২০২০ সাল শেষে ৪৮৩ কোটি ১০ লাখ টাকার ঋণ দেওয়া হয়েছিল। এক বছরের ব্যবধানে ঋণ বেড়েছে ৬৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
২০২১ সালজুড়ে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে ১৩৫ কোটি ৬০ লাখ টাকার বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। একই সময়ে রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয় এসেছে ২ হাজার ১৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে গ্রামাঞ্চলেই এসেছে ১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকার প্রবাসী আয়।