রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন চলমান থাকায় হুমকির মুখে পড়েছে কৃষি জমি এবং রাস্তাঘাট। অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে গ্রামীণ কাঁচা-পাকা সড়কের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
দেখা গেছে, উপজেলার করতোয়া নদীর প্রায় ৫০টি পয়েন্ট থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে দিনেরাতে চলছে বালু তোলা। করতোয়ার এখানে সেখানে যেন ব্যাঙের ছাতার মতো মেশিন বসিয়েছেন বালু ব্যবসায়ীরা। এ নদী ছাড়াও উপজেলার আখিরা নদীসহ ছোট-বড় প্রায় সব নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে রাত দিন সমান করে বালু উত্তোলন চলছেই।
এতে হুমকির মুখে পড়েছে পার্শ্ববর্তী এলাকার আবাদি জমি এবং ঘর-বাড়ি। ভেঙেচুরে অচল হয়ে পড়েছে ওইসব এলাকার চলাচলের রাস্তা-ঘাট।
স্থানীয়রা জানান, করতোয়া নদীর ধার ঘেঁষে টুকুরিয়া, বড় আলমপুর এবং চতরা ইউনিয়নসহ সবগুলো পয়েন্ট থেকে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হচ্ছে। ক্ষয়-ক্ষতির কারণে টুকুরিয়া এবং চতরার বালু পয়েন্টের আশপাশের রাস্তা দিয়ে বাইসাইকেল,ভ্যান-রিকশা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে এবং পথচারীদের দুর্ভোগ বাড়ছে।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে বেশ কিছু বালু পয়েন্টে মাঝেমধ্যে প্রশাসন হানা দিলেও কিছুতেই থামছে না বালু উত্তোলনকারীদের কর্মকাণ্ড। কয়েকটি বালু পয়েন্ট থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ জরিমানা করা হলেও তারা হার মানছে না কিছুতেই।
টুকুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন আমার বাড়ি থেকে পীরগঞ্জ পর্যন্ত রাস্তায় ধুলো আর বালু। এসব রাস্তার ধুলো বালুর কারণে সড়কগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে রাস্তার দুই পাশের ঘর-বাড়িগুলোতে ধুলো বালু ঢুকে পরিবেশ নষ্ট, শ্বাসকষ্ট, নিউমোনিয়াসহ করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্র জানায়, ২০১০ সালে বালু উত্তোলন নীতিমালায় যন্ত্রচালিত মেশিন দ্বারা ড্রেজিং পদ্ধতিতে নদীর তলদেশ থেকে বালু উত্তোলন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়াও সেতু, কালভার্ট, রেললাইনসহ মূল্যবান স্থাপনার এক কিলোমিটারের মধ্যে বালু উত্তোলন করা বেআইনি। অথচ বালু দস্যুরা সরকারি ওই আইন অমান্য করে ছোট বড় সব নদীতে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু তুলেই যাচ্ছে।
অপরদিকে, উত্তোলিত বালু দিনরাত ড্রাম ট্রাকযোগে প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর দিয়ে পরিবহন করা হলেও তারা এ ব্যাপারে নীরব।
পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী ভূমি কমিশনার খায়রুল ইসলামের সঙ্গে কথা হলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, করতোয়া নদী থেকে বালু উত্তোলন সরকারিভাবে নিষেধ রয়েছে। যারা অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু তুলছে তাদের বিরুদ্ধে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।