রাজধানীতে ৯৮ শতাংশই ওমিক্রন

রাজধানীতে করোনা আক্রান্তদের মধ্যে ৯৮ শতাংশ ওমিক্রন ধরনে আক্রান্ত। বাকি ২ শতাংশ ডেল্টা ধরনে আক্রান্ত ছিল। ৪৮টি নমুনার মধ্যে ৪৭টিতে ওমিক্রনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। বাকি একজনের নমুনায় পাওয়া গেছে ডেল্টা ধরন। করোনা রোগীদের মধ্যে ওমিক্রনের বিএ.২ উপধরনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ শতাংশ রোগী। বাকি ১৭ ভাগ রোগী বিএ.১ উপধরনে আক্রান্ত বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)। গত ২৯ জানুয়ারি থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইসিডিডিআর,বির ভাইরোলজি ল্যাবে রাজধানীর ৪৮ জন করোনা রোগীর নমুনা পরীক্ষায় এ ফল পাওয়া গেছে। গক গতকাল রবিবার প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়।

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি আইসিডিডিআর,বি জানিয়েছে, ২৪ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্স করে ৯২ শতাংশ নমুনায় ওমিক্রন এবং ৮ শতাংশ নমুনায় ডেল্টার ধরন পাওয়া গেছে। ওমিক্রন শনাক্ত হওয়া নমুনার মধ্যে উপধরন বিএ.২ সবচেয়ে বেশি বলে চিহ্নিত করা গেছে। গত ১৫ থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে ২৪ জন করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা ঢাকা শহর থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল।

গতকাল রবিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় (২৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টা) করোনায় নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ৮৬৪ জন এবং মারা গেছেন ৯ জন। এ নিয়ে মোট রোগী শনাক্ত হয়েছে ১৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৮০ জন এবং মারা গেলেন ২৯ হাজার ৩৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনার নমুনা সংগৃহীত হয়েছে ২১ হাজার ৫০৮টি আর পরীক্ষা হয়েছে ২১ হাজার ৫৪৩টি। দেশে এখন পর্যন্ত করোনার মোট নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ১ কোটি ৩৩ লাখ ৭৬ হাজার ৭৩৪টি।  নমুনা পরীক্ষার বিপরীতে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগী শনাক্তের হার চার দশমিক এক শতাংশ আর এখন পর্যন্ত শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৫২ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৯৩ শতাংশ আর মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৯ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ জনের মধ্যে পুরুষ ছয়জন আর নারী তিনজন। তাদের নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট পুরুষ মারা গেলেন ১৮ হাজার ৫৩৯ জন আর নারী ১০ হাজার ৩৩ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ৯ জনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সে মারা গেছেন ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে পাঁচজন। বাকিদের মধ্যে ১১ থেকে ২০ বছর, ৪১ থেকে ৫০ বছর, ৭১ থেকে ৮০ বছর আর ৯১ থেকে ১০০ বছরের মধ্যে আছেন একজন করে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে; পাঁচজন। বাকিদের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আছেন তিনজন আর খুলনা বিভাগের আছেন একজন।