অন্য নারীর সঙ্গে সম্পর্কের জেরে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতুকে ভাড়াটে খুনিদের দিয়ে হত্যা করান সাবেক এসপি বাবুল।
মঙ্গলবার ঢাকার বনশ্রীর বাসায় চট্টগ্রাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) একটি দলের কাছে বাবুলের শ্বশুরপক্ষ এ অভিযোগ করে। ওই দিন বিকেলে ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পিবিআই।
বাবুলের শ্বশুর সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোশাররফ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, কক্সবাজারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পদে কর্মরত থাকাকালে এক এনজিও নারী কর্মকর্তার সঙ্গে বাবুলের সম্পর্ক ছিল। এ কারণে তার মেয়েকে বাবুল প্রায়ই নির্যাতন করতেন। বিষয়টি নিয়ে ওই সময় পারিবারিকভাবে সালিসও হয়। দুজনের সম্পর্কের চিঠি, উপহারসহ নানা কাগজপত্র পিবিআইকে দেওয়া হয়েছে।
বাবুলের শাশুড়ি সাহেদা মোশাররফ ও মিতুর বোন শায়লা মোশাররফও একই কথাই বলেন।
সাহেদা মোশাররফ বলেন, পারিবারিক সম্মানের ভয়ে তারা বিষয়টি ওই সময় বাইরের কাউকে জানতে দেননি। তার মেয়ে প্রায়ই তাকে বাবুলের সম্পর্কের কথা বলতেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বাবুলের আইনজীবী শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী দাবি করেছেন, তার মক্কেলকে ষড়যন্ত্র করে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনার পর বাবুল তার শ্বশুরের বাসায় ছিলেন। তখনও তারা এধরনের কিছু বলেননি। এখন নতুন করে ষড়যন্ত্র করছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই চট্টগ্রামের পরিদর্শক আবু জাফর মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, বাবুলের শ্বশুর, শাশুড়ি ও তার শ্যালিকাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পাওয়া তথ্যগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
মাহমুদা হত্যার পরদিন ২০১৬ সালের ৬ জুন তার স্বামী বাবুল বাদী হয়ে নগরের পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পিবিআই গত বছরের ১২ মে এই মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। একই দিন বাবুলের শ্বশুর মোশাররফ বাদী হয়ে পাঁচলাইশ থানায় হত্যা মামলা করেন। এই মামলায় বাবুলসহ আটজনকে আসামি করা হয়।