অতিপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ছাড়া রাশিয়াকে আর কোনো সেবা দেবে না বিশে^র শীর্ষ ৩ শিপিং লাইন। গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা।
ড্যানিশ শিপিং জায়ান্ট মায়েরক্স, সুইজারল্যান্ডের এমএসসি ও ফ্রান্সের সিএমএ সিজিএম গত মঙ্গলবার ঘোষণা দিয়েছে, তারা রাশিয়া থেকে পণ্যের জন্য বুকিং নেবে না এবং বেশির ভাগ ডেলিভারি স্থগিত করতে যাচ্ছে। ইউক্রেনে আগ্রাসনের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ একাধিক দেশ রাশিয়ার অর্থনৈতিক ও বিভিন্ন খাতে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। সেই চাপ সামলাতে হচ্ছে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সেবা সরবরাহ কোম্পানিকে।
এক বিবৃতিতে মায়েরস্ক বলছে, ‘খাদ্যসামগ্রী, চিকিৎসা ও মানবিক সরবরাহ ছাড়া রাশিয়ায় বুকিং সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে।’ এমএসসি একই ধরনের ব্যবস্থা ঘোষণা করেছে। তারাও বলেছে, শুধু প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহের জন্য বুকিং গ্রহণ করবে। অন্যদিকে সিএমএ সিজিএম বলছে, ‘নিরাপত্তার স্বার্থে’ তারা সব বুকিং স্থগিত করছে। এ ছাড়া বোয়িং, অ্যাপল, নাইকি, ভিসা, মাস্টারকার্ডসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান সেবা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। রাশিয়া বিশ্বের ১১তম বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ। জ্বালানি তেল, গ্যাস, গম-সহ নানান ক্ষেত্রে অন্যতম দেশ এটি। বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে রাশিয়াকে সাময়িকভাবে বিচ্যুত করতে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে পশ্চিমারা। এতে কোম্পানিগুলোকে বিক্রি, বিনিয়োগ সব কিছুই স্থগিত করতে হচ্ছে। জার্মান অর্থমন্ত্রী ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডার বলেছেন, ‘এই নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যই হলো রাশিয়াকে রাজনৈতিক, আর্থিক ও অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা’। ধনী দেশগুলোর সংঘ জি৭ ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি আরও বলেন, এসব পদক্ষেপে বড় প্রভাব পড়েছে পুঁজিবাজার ও মুদ্রাবাজারে।
অ্যাপল ইনকরপোরেশন ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশিয়ায় তাদের পণ্য বিক্রয় কার্যক্রম স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পেমেন্ট সেবা ভিসা ও মাস্টারকার্ড রাশিয়ার বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্কছেদ করেছে। প্রতিষ্ঠান দুটি বলছে, ইউক্রেনের ওপর মস্কোর চলমান আগ্রাসনে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবরোধ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।
ভিসা বলেছে, তারা নিজ সরকারের অবরোধের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে। সেই সঙ্গে সংস্থাটি চলমান সংকটে ২০ লাখ ডলার মানবিক সহায়তা দেবে। মাস্টারকার্ড ২০ লাখ ডলারের আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। রুশ মুদ্রা রুবল ও আর্থিক বাজারের পতন রোধে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে রাশিয়ার কর্তৃপক্ষ। রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন গত সপ্তাহে ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর ঘোষণা দেওয়ার পর রুবলের দরপতন হয়েছে ৩৫ শতাংশ।