চাপের মুখে পড়ে চেলসি বিক্রি করার কথা জানিয়েছেন রুশ ধনকুবের রোমান আব্রামোভিচ। সুইস ব্যবসায়ী হান্সজর্গ উইস-সহ আরও বেশ কয়েকজনের কাছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবটি বিক্রির প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।
ইউক্রেনে হামলার কারণে পশ্চিমা বিশ্ব একের পর নিষেধাজ্ঞা আনছে রাশিয়ার ওপর। এদিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ঘনিষ্ঠ হওয়ার কারণেই সমস্যায় পড়েছেন আব্রামোভিচও। এই সংকটের প্রভাব পড়েছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগেও।
প্রায় ২০ বছরের বেশি সময় ধরে চেলসির সঙ্গে আছেন আব্রামোভিচ। ২০০৩ সালে ক্লাবটি কিনেন তিনি। তার সময়ে পাঁচবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছে ব্লুজরা। সেই সঙ্গে ঘরে তুলেছে দুটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগও।
চেলসিকে ইউরোপ জায়ান্ট বানাতে মিলিয়ন-মিলিয়ন খরচ করেছেন আব্রামোভিচ। এনেছেন বিশ্বের সেরা ফুটবলারদেরও।কিন্তু এবার চাপের মুখে পড়ে নিজেই জানালেন ক্লাব বিক্রির কথা। এক বিবৃতিতে রুশ ব্যবসায়ী জানান, ক্লাব বিক্রির টাকায় একটি সংস্থা তৈরি করবেন। সেই সংস্থা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ইউক্রেনিয়ানদের সাহায্য করবে।
ইউক্রেনের সঙ্গে রাশিয়ার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে রুশদের বিরুদ্ধে চলে গেছে পুরো বিশ্ব। খেলার জগতের অধিকাংশ দল বা অ্যাথলেট রাশিয়ানদের বিরুদ্ধে খেলতে অস্বীকার করছেন। ফিফা নির্বাসিত করেছে রাশিয়াকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ফাইনালের ভেন্যুও রাশিয়া থেকে সরানো হয়েছে। পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিলের দিকে যাচ্ছে। দলে যাতে তার কোনো প্রভাব না পড়ে তাই হয়তো চেলসি বিক্রির পরিকল্পনা করছেন আব্রামোভিচ। তবে সুইস ব্যবসায়ী হান্সজর্গ উইস জানালেন অন্য কথা।
তিনি বলেন, ‘আব্রাহামোভিচ পুতিনের অন্যতম পরামর্শদাতা। তাই পুতিন ঘনিষ্ঠ অন্যদের মতো তিনিও চাপে আছেন। সেই কারণে ইংল্যান্ডে নিজের সমস্ত ভিলা বিক্রি করার চেষ্টা করছেন তিনি। একই সঙ্গে চেলসিও দ্রুত বিক্রি করে দিতে চান। শুধু আমি নই, আরও তিনজনের কাছে চেলসি কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’
উইস আরও বলেন, ‘চেলসি কিনব কিনা, তার জন্য আমাকে ৪-৫ দিন অপেক্ষা করতে হবে। চেলসির বিপুল টাকা দাম রেখেছেন তিনি। ওর কাছে আবার চেলসির প্রায় ২ বিলিয়ন পাউন্ড দেনা। কিন্তু এই মুহূর্তে ক্লাবের অর্থ নেই। তার মানে, যেই চেলসি কিনবে, তাকে ওই অর্থও দিতে হবে।’