নগরায়ণে জোর দিতে হবে ঢাকা-চট্টগ্রামের বাইরেও

ঢাকা এবং চট্টগ্রামের নগরায়ণের প্রবৃদ্ধি দেশের নগরায়ণের মোট প্রবৃদ্ধিতে স্তিমিত করে দিচ্ছে। সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকেও স্তিমিত করে দিচ্ছে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিআইডিএস) এক কর্মশালায় এমন বক্তব্য উঠে এসেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিআইডিএসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গেটিং আরবানাইজেশন রাইট ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন। এ কর্মশালা আয়োজনে সহযোগিতা করে বিশ্বব্যাংক। কর্মশালায় বক্তারা ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরেও নগরায়ণে জোর দেওয়ার কথা বলেন।

বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন বলেন, ‘আমাদের দেশের নগরায়ণের যে প্রচলিত ধারা সেটাকে পুনর্বিন্যাস করে সঠিক ধারায় নিয়ে আসার আলোচনার জন্যই এ কর্মশালা। এখানে বক্তাদের অনেকেই বলতে চেয়েছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের নগরায়ণ প্রস্তুতকারক খাতকে ঘিরে গড়ে উঠেছে। যা অন্যান্য দেশের নগরায়ণ ধারার সম্পূর্ণ বিপরীত। আফ্রিকায় নগরায়ণ আছে কিন্তু প্রস্তুতকারক খাতকে ঘিরে নয়। এ ধরনের নগরায়ণ ধারার পরিবর্তনের জন্য কী করতে হবে তা নিয়ে আমাদের ভাবার দরকার আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নগরায়ণের আরেকটি চিন্তার বিষয় হচ্ছে জলবায়ুগত পরিবর্তন। দক্ষিণাঞ্চলের কিছু অংশ সমুদ্রে তলিয়ে যাওয়ার যে পূর্বানুমান রয়েছে তা ঘটতে থাকলে মানুষ উত্তরাঞ্চলের দিকে চলে যাবে। এটাও এক ধরনের অভিবাসন। কিন্তু অনেকেই হয়তো জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে থেকেও এক জায়গা থেকে আরেক জয়াগায় যেতে পারবে না তাদের সক্ষমতার অভাবে। এ ক্ষেত্রে তাদের অভিযোজন বা খাপ খাইয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।’

বিনায়ক সেন বলেন, ‘ঢাকার বাইরের ছোট জেলাগুলোর নগরায়ণের প্রবৃদ্ধি তেমন হয়নি। ছোট জেলাগুলোর নগরায়ণেও জোর দিতে হবে। তবে সব ছোট জেলার নগরায়ণ একই হারে না বাড়লেও তাতে কোনো অসুবিধা হবে না।’

আলোচকরা বলেন, নগরায়ণের জন্য আলাদা কোনো মন্ত্রণালয় নেই। নগর সুশাসনের জন্য কর্তৃপক্ষ নেই। থাকলে সেখান থেকে আমরা নগরায়ণের ইস্যুগুলোর সমাধান পাওয়া যেত। তারা আরও বলেন, ’৭৪ সালের সুমারি থেকে দেখা যায়, তখন নগরে জীবনযাপন করা মানুষ ছিল মোট জনসংখ্যার ৫ শতাংশ। এখন এ হার ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। এ তথ্য নতুন নয়। ঘনবসতিপূর্ণ এ দেশে নগরের মানুষের ঘনত্ব আরও বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরের শহরগুলো এবং পৌরসভা এলাকায় নগরায়ণের সব সুবিধার ব্যবস্থা করতে পারলে নগরায়ণের ঘনত্ব কমে আসবে।

কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশ সিইএম ২.০-এর টাস্ক টিম কো-লিডার ও সিনিয়র ইকোনমিস্ট ড. নোরা ডিহেল ও বিআইডিএসের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মোহাম্মদ ইউনুস। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের সাসটেইনেবিলিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার টিমের সিনিয়র ইকোনমিস্ট ড. ফরহাদ শিল্পী ও ইকোনমিস্ট ড. আলেহান্দ্রো মোলনার।