প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরাও টিকা পাবে : প্রধানমন্ত্রী

১২ বছরের কম বয়সীদের করোনার টিকার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বয়সের আওতা কমানোর লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) কাছে আবেদন করা হয়েছে এবং শিগগিরই তা পাওয়া যাবে বলে আশা করি। আর এটা হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও টিকা পাবে।’

গতকাল বৃহস্পতিবার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিজ্ঞানী, গবেষক এবং বিজ্ঞান শিক্ষার্থীদের মধ্যে বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ, এনএসসি ফেলোশিপ এবং বিশেষ গবেষণা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর ওসমানী মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সংযুক্ত হন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবারও খুলে দেওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘স্কুল-কলেজ আমরা খুলে দিয়েছি। এখন স্বাভাবিকভাবেই চলবে। আমরা ১২ বছর পর্যন্ত টিকা দিচ্ছি। ডব্লিউএইচওর কাছে ইতিমধ্যে আবেদন করা হয়েছে, আরও অল্প বয়সের শিশুদের জন্য টিকা দেওয়ার অনুমতির জন্য। আমার মনে হয় এটা এসে যাবে। কাজেই আমরা তখন মনে হয় সবাইকে টিকা দিতে পারব। যদি ৭-৮ বছর থেকে বা ১০ বছর থেকে টিকা দিতে পারি, তাহলে আমাদের প্রাইমারিতে আর কোনো অসুবিধা হবে না। তারা নিশ্চিন্তে স্কুলে যেতে পারবে।’

দেশের বিজ্ঞানী ও গবেষকদের সর্বোচ্চ শ্রম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে জাতীয় উন্নয়নে কাজ করার তাগিদ দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘আমরা দেশ-বিদেশে বিজ্ঞান-প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এমএস, এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর প্রোগ্রামের জন্য বঙ্গবন্ধু ফেলোশিপ দিচ্ছি। ২০১০-১১ অর্থবছর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৫৯৬ জনকে ২২৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা দিয়েছি। এ ছাড়াও এমফিল, পিএইচডি ও পিএইচডি-উত্তর পর্যায়ে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ২২ হাজার ২২০ ছাত্র-ছাত্রী ও গবেষকদের মধ্যে ১৩৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ফেলোশিপ দিয়েছি। পাশাপাশি ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে বর্তমান পর্যন্ত ৫ হাজার ২০টি প্রকল্পের অনুকূলে ১৭৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা বিশেষ অনুদান দিয়েছি।’

বিজ্ঞানী ও গবেষকদের উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, ‘দেশের মানুষের দেওয়া রাজস্ব থেকে আপনাদের ফেলোশিপ/গবেষণা অনুদান দিচ্ছি। আপনাদের সর্বোচ্চ শ্রম ও দায়বদ্ধতা নিয়ে জাতীয় উন্নয়নে কাজ করতে হবে। আমাদের সরকার দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিতে বদ্ধপরিকর। মনে রাখবেন, আপনাদের উদ্ভাবনী জ্ঞানের ব্যবহারিক প্রয়োগ যেন মানুষের কল্যাণে হয়।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য কাজ করতে হবে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। দেশকে এমনভাবে গড়তে চাই, যেন সবাই প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন হয়। কিছুটা হলেও যেন তারা প্রযুক্তির বিষয়ে জানে।’

বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, ‘গবেষণা না থাকলে আজকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারতাম না। এজন্য আমি গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিই। বিশেষ করে বিজ্ঞান আর মেডিকেল সায়েন্সের গবেষণা। মেডিকেলের ওপর আমাদের গবেষণা কিছুটা কম। সেখানে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। বেশি করে আমাদের গবেষণা করতে হবে। গবেষণাই পারে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।’

দেশের প্রতিটি বিভাগে বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটার গড়ে তোলা হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আটটি বিভাগের মধ্যে চার-পাঁচটির কাজ আমরা পাস করে দিয়েছি। আইন পাস করা হয়েছে। বাকিগুলো আমরা করব। প্রত্যেক বিভাগে এটা করব। যাতে আমাদের ছেলেমেয়েরা আরও ভালো শিক্ষা নিতে পারে। জ্ঞান অর্জন করতে পারে।’