নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীকে বাসে ওঠানোকে কেন্দ্র করে ডিবি ড্রিমল্যান্ড ও স্টার লাইন কাউন্টারের কর্মচারীদেরকে মধ্যে মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার এই মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আজ শুক্রবার সড়ক অবরোধ করেছে ডিবি ড্রিমল্যান্ডের মালিক ও কর্মচারীরা।
ফেনীর দাগনভূঞা-কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের তালের চারা নামক স্থানে গাছের গুঁড়ি, চেয়ার টেবিল দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেন তারা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বসুরহাট বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীবাহী বাস ড্রিমল্যান্ড পরিবহন ও স্টার লাইন পরিবহন সেখানে দীর্ঘদিন ব্যবসা করে আসছে। গত ১ মার্চ স্টার লাইন কর্তৃপক্ষ তাদের ব্যবসা পৃথক করে ড্রিমলাইন স্পেশাল নামে নতুন পরিবহনের যাত্রা শুরু করে। এ নিয়ে গত কয়েক দিন বেশ উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৪ টার দিকে যাত্রী ডাকাডাকিকে কেন্দ্র করে স্টার লাইন পরিবহনের ম্যানেজার মো. মহিমের সঙ্গে তর্কে জড়ায় ডিবি ড্রিমল্যান্ড পরিবহনের কর্মচারী লোকমান হোসেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া পাল্টাপাল্টি বাস ও কাউন্টারে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এতে আহত হন স্টার লাইন পরিবহনের (ড্রিমল্যান্ড স্পেশাল) ড্রাইভার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ও সুপারভাইজার মিলন বাবু। অপরদিকে ডিবি ড্রিমল্যান্ড পরিবহনের কর্মচারী মো. লোকমান, রাব্বি, শাওন আহত হন।
স্টার লাইন পরিবহনের ও ড্রিমলাইন স্পেশালের ম্যানেজার মো. মহিন জানান, কোম্পানীগঞ্জে তাদের বাস কাউন্টারটি চালু হওয়ার পর থেকে তাদের যাত্রী সংখ্যা বেড়ে যায়। পার্শ্ববর্তী ডিবি ড্রিমলাইন পরিবহনের যাত্রী সংখ্যা কমে যাওয়ায় তারা ঈর্ষান্বিত হয়ে কোম্পানীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামের নেতৃত্বে তাদের বাস ও লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে।
তিনি আরও জানান, নতুন আঙ্গিকে উদ্বোধন হওয়া ড্রিমলাইন স্পেশাল পরিবহনে দাবিকৃত চাঁদা না পেয়ে দাগনভূঞা দুধমুখা বাজার কাউন্টারে হামলা করেছে চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা। হামলার সময় ড্রিমলাইন কাউন্টারের আসবাবপত্র তছনছ করে কাউন্টারে রক্ষিত টিকিট বিক্রির ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লুটে নেয় তারা।
এ ব্যাপারে কোম্পানীগঞ্জ বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম জানান, স্টার লাইনের পরিবহনের ড্রিম লাইন স্পেশালের স্বপন ও মহিন আমাদের ডিবি ড্রিমল্যান্ডের শ্রমিকদের ওপর হামলা করে। এতে আমাদের ৪/৫ জন শ্রমিক আহত হয়েছে। এ সময় স্ট্যান্ডে থাকা আমাদের একটি গাড়ি ভাঙচুর করে তারা। পরবর্তীতে উত্তেজিত শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করেন।
দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হাসান ইমাম জানান, সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া মাত্র ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে তা থানায় নিয়ে আসি।
এ ঘটনায় ড্রিম লাইন ও স্টার লাইনের জনসংযোগ কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে শুক্রবার সকালে ৭ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন।