ইউরোপের বৃহত্তম ও ইউক্রেনের জেপোরোজিয়া পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র দখলে নিয়েছে রাশিয়া। তীব্র লড়াইয়ের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি দখলে নেয় রুশ সেনারা। এর আগে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ভবনে রাশিয়ার বোমা হামলায় সেখানে আগুন ধরে যায়। রয়টার্স জানিয়েছে, রাশিয়ার দখলে যাওয়ার পর কর্মীরা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্র্তৃপক্ষ। তারা আরও জানিয়েছেন, পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন এবং বিদ্যুৎ ইউনিটগুলোর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন।
এর আগে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ভবনে রাশিয়ার বোমা হামলায় সেখানে আগুন ধরে যায় বলে জানিয়েছিলেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা। সে সময় এই পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের আশপাশে রাশিয়া এবং ইউক্রেনের সৈন্যদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষেরও খবর সামনে আসে। আগুন লাগার পর আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছিল, তারা ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন এবং জানতে পেরেছেন যে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির অপরিহার্য অংশগুলো এখনো চলমান আছে।
এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার খবরে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিমন্ত্রী জেনিফার গ্রানহোম টুইটারে লেখেন, ইউক্রেনের জেপোরোজিয়া পারমাণবিক কেন্দ্রে অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তিনি ইউক্রেনের জ্বালানিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন। জেনিফার বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউক্লিয়ার ইনসিডেন্ট রেসপন্স টিমকে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গ্রানহোম বলেন, পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছে রাশিয়ার সামরিক অভিযান অত্যন্ত বেপরোয়া পদক্ষেপ এবং এটি শেষ হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ কমিশন এবং হোয়াইট হাউজের সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবশ্য আগুনের ঘটনায় ওই পারমাণবিক কেন্দ্রে বিকিরণের মাত্রা বাড়েনি বলেও জানান তিনি।
জেপোরোজিয়াতে রুশ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন পশ্চিমা নেতা। তাদের আশঙ্কা, মস্কোর এমন কর্মকাণ্ড পুরো ইউরোপকে হুমকিতে ফেলবে। হামলার নিন্দা জানিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একে বেপরোয়া কর্মকাণ্ড হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ ধরনের আচরণ পুরো ইউরোপের নিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকিতে ফেলছে বলেও সতর্ক করেন তিনি। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডাও জেপোরোজিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রে রুশ হামলা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন জেপোরোজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের এলাকায় সামরিক তৎপরতা বন্ধ করার জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে জেপোরোজিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে ‘পরমাণু সন্ত্রাস’ চালানোর অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে বলেছেন, রাশিয়া ১৯৮৬ সালের চেরনোবিল পারমাণবিক বিপর্যয়ের পুনরাবৃত্তি চায়।