আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় চলতি অর্থবছর বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠকের পর গত বৃহস্পতিবার আইএমএফের নির্বাহী পর্ষদ এ উপসংহারে পৌঁছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে জানুয়ারিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৫ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অবশ্য সরকারের এই হিসাবের ব্যাপারে অর্থনীতিবিদদের কারও কারও সংশয় রয়েছে। চলতি অর্থবছরের (২০২১-২২) বাজেটে সরকার মূল্যস্ফীতিকে ৫ দশমিক ৩ শতাংশের মধ্যে বেঁধে রাখার পরিকল্পনা করে। তবে গত আগস্টের পর থেকে তা বাড়তির দিকে।
করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ায় দেশের বাজারেও নিত্যপণের দাম বাড়ছে। এ ছাড়া ইউক্রেনে হামলার পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা দেশগুলোর একের একের পর নিষেধাজ্ঞার কারণে জ¦ালানি তেলের দাম বেড়ে গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ¦ালানি তেলের দাম ১১০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।
আইএমএফ তাদের প্রতিবেদনে বলেছে, করোনা মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। যদিও মহামারীর আগে দেশটির অর্থনীতি স্থিতিশীল ছিল। অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে বাংলাদেশ প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার (জিডিপির ৬ শতাংশ) প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি অগুরুত্বপূর্ণ খাতের দৈনন্দিন ব্যয় কমানো হয়েছে এবং কম অগ্রাধিকারের বড় প্রকল্প স্থগিত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রাথমিক ঘাটতি কাটিয়ে বিপুলসংখ্যক মানুষকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে।
আর্থিক খাতের বিশ^ সংস্থাটি বলেছে, স্বাধীনতার পর থেকে গত ৫০ বছরে বাংলাদেশ যথেষ্ট অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০১০ সালের পর থেকে বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির গড় ৫ শতাংশ করে থাকছে। যার ফলে দারিদ্র্যের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় সুযোগ বাড়ছে। বাংলাদেশ ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের স্বীকৃতি পেয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটি মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল রাখতে এবং মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় ঋণের হার কমিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর কারণে চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি পেতে পারে। এ ক্ষেত্রে সরকারের প্রণোদনা তহবিলের বাস্তবায়ন এবং সঙ্কুলানমুখী মুদ্রানীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
করোনা মহামারীর শুরুর ধাক্কায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে গিয়েছিল ৩ দশমিক ৫১ শতাংশে, যা তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। এরপর ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনের হিসাব দেয় বিবিএস।
চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সরকার ৭ দশমিক ২ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। যদিও বিশ্বব্যাংকের হিসাবে এবার বাংলাদেশ ৬ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে।