পোল্যান্ড পৌঁছেছে ৬ শতাধিক বাংলাদেশি

ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে হামলার শিকার বাংলাদেশি জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র ২৮ নাবিককে উদ্ধার করে নিরাপদে রাখার পর এখন তাদের রোমানিয়ায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে হামলায় নিহত জাহাজটির থার্ড প্রকৌশলী মো. হাদিসুর রহমানের লাশও নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

গতকাল শুক্রবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পোল্যান্ড পৌঁছেছেন ছয় শতাধিক বাংলাদেশি। সেখানে আরও প্রায় ১০০ বাংলাদেশি এখন আটকে থাকতে পারেন।

ইউক্রেন থেকে বাংলাদেশিদের আনার বিষয়ে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ইউক্রেনে কিছু পকেট আছে, যেখানে বাংলাদেশিরা থাকতে পারেন। আমরা সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসকে অনুরোধ জানিয়েছি, ভারতীয়দের উদ্ধারের সময় যদি বাংলাদেশি কেউ থাকে, তাকেও যেন সঙ্গে নেওয়া হয়।

‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজে হামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’র ওপর কারা হামলা করেছে সে বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তবে ঘটনাটি তদন্ত করে জানানোর আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়া।

গত ২৬ জানুয়ারি ভারতের মুম্বাই বন্দর থেকে তুরস্ক হয়ে ২২ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে পৌঁছায় বাংলাদেশের পতাকাবাহী ও রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘এমভি বাংলার সমৃদ্ধি’। কয়েক দিনের মধ্যে সিরামিকের কাঁচামাল ‘সিমেন্ট ক্লে’ নিয়ে জাহাজটির ইতালির রোভেনা বন্দরের উদ্দেশে যাত্রার কথা ছিল। কিন্তু রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইউক্রেনে হামলা শুরু করে। এতে বন্দরেই আটকে যায় জাহাজটি।

তবে যুদ্ধাবস্থা এড়াতে জাহাজটিকে সেখানে পৌঁছানোর পরই পণ্য বোঝাই না করে দ্রুত ফেরত আসার জন্য নির্দেশনা দেন শিপিং করপোরেশনের কর্মকর্তারা। শেষ মুহূর্তে বন্দরের পাইলট না পাওয়ায় ইউক্রেনের জলসীমা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি বাংলাদেশের এই জাহাজ। ওই জাহাজে ২৯ জন নাবিক ছিলেন। ২ মার্চ রাতে জাহাজে রকেট হামলা হয়। এতে জাহাজের থার্ড ইঞ্জিনিয়ার হাদিসুর রহমান নিহত হন। পরে আটকেপড়া এই জাহাজের ২৮ জন নাবিককে উদ্ধার করে সেফ জোনে নিয়ে যাওয়া হয়।