এক ম্যাচ পরই পুরনো রোগ

টি-টোয়েন্টিতে আমাদের যেতে হবে বহুদূরম্যাচ শেষে নাজমুল হাসান পাপনের উপলব্ধি এটাই। অবশ্য এমন উপলব্ধি তার প্রতি টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষেই হয়। সেই বহুদূর পথের শেষটা কোথায় তা অবশ্য কেউই জানে না। অনুশীলনে দারুণ করা ক্রিকেটাররা মাঠে গিয়ে কীভাবে সব গুলিয়ে ফেলেন তা রহস্যই রয়ে যায়। প্রথম ম্যাচে গড়পড়তা ব্যাটিং করেও পার পাওয়া গেছে। দুদিন পর পুরনো রোগ ফিরে আসায় ফিরল ব্যাটিং ব্যর্থতা। সঙ্গে আরেক চলমান রোগ ক্যাচ-মিস মিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে সেই হ-য-ব-র-ল অবস্থা বাংলাদেশের। তাই আফগানিস্তানকে প্রথমবার এই ফরম্যাটে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ লুফে নেওয়া গেল না। পুঁজি যখন ১১৫ রান, তখন ম্যাচ জয়ের চিন্তাও  করা যায় না। ১৪ বল আর ৮ উইকেট হাতে রেখে স্বচ্ছন্দে লক্ষ্য ছুঁয়ে সিরিজটাকে ড্র করে দেশে ফিরতে পারছে আফগানরা।

ম্যাচ শেষে অধিনায়কের আসার কথা ছিল সংবাদ সম্মেলনে। তার পরিবর্তে এলেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো। অবশ্য মাহমুদউল্লাহ এলেও যে কথার খুব পরিবর্তন হতো তা নয়। কিছু রান কম হওয়ার পুরনো আক্ষেপ আবারও উঠল। পুরস্কার বিতরণীতে মাহমুদউল্লাহ বললেন ২০ রান কম। ডমিঙ্গোরও একই সুর। তার বড় আক্ষেপ ব্যাটারদের সেট না হয়েই উইকেট বিলিয়ে আসা। চাপে পড়ে কীভাবে ম্যাচ বের করতে হয় তা ব্যাটাররা কবে শিখবেন! ওয়ানডে সিরিজে চট্টগ্রামে বারবার উইকেট হারালেও দারুণভাবে ফেরার চেষ্টা করেছিল আফগান ব্যাটাররা। প্রতিবার চেষ্টা করেছে জুটি গড়ার। বড় জুটি তারা গড়তে পারেনি ঠিক, কিন্তু প্রক্রিয়া ঠিক রেখে টানা উইকেট বিলিয়ে দেয়নি। কালও বাংলাদেশ ব্যাটসম্যানরা স্ট্রাইক ঘুরিয়ে জুটি গড়ার চেষ্টা করেননি। মাহমুদউল্লাহ-মুশফিক ছাড়া বাকি সবাই ভুল শটে ফিরেছেন। অবশ্য আফগান দুই পেসার ফারুকি ও ওমর জাইয়ের প্রশংসা না করে পারা যায় না। পেস সহায়ক উইকেটে দুর্দান্ত বল করে দুজনই নিয়েছেন ৩টি করে উইকেট। পেস সহায়ক পিচে সুবিধাটা আফগানদেরই দিয়ে দেয় স্বাগতিক ব্যাটাররা। 

অভিষেক সিরিজের চাপে মুনিম শাহরিয়ার টানা দ্বিতীয় ম্যাচে ব্যর্থ হলেন ১০ বলে ৪ রান করে। গত ম্যাচের সর্বোচ্চ স্কোরার লিটন দাশ ১০ বলে ১৩ করে ফিরলেন। পাওয়ার প্লের ভেতর দুজনকে হারিয়ে ৩৩ রান তোলে বাংলাদেশ। ভাগ্যিস পঞ্চম ওভারে দুই চার মেরেছিলেন নাঈম শেখ (১৯ বলে ১৩)। ৪০ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে সাকিব আল হাসানের ১৫ বলে ৯ রানে আউট হওয়ায়। শততম টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মুশফিক ৩০ ও টি-টোয়েন্টিতে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে দুই হাজার রানের মাইলফলক পার করা মাহমুদউল্লাহ মিলে ৪৩ রান যোগ করেন। কাছাকাছি সময়ে এ দুজন ফেরার পর শেষের তিন ওভারে আর রানই তুলতে পারেনি বাংলাদেশ। আফিফ ৭, মাহেদী ০, নাসুম ৫ রান করে দলকে ১১৫তে পৌঁছে দেন।

এই রানে আসলে জয়ের ভাবনা কঠিন। ক্যাচ মিস তা আরও কঠিন করে দেয়। ইনিংসের প্রথম ওভারেই নাসুম নিজে কল দিয়ে সহজ ক্যাচ ছাড়েন। ১২ ও ১৪তম ওভারে আফিফ ও নাঈম ছাড়লেন আরও দুটি। প্রায় প্রতি ম্যাচেই ধারাবাহিক ক্যাচ মিসের কারণ জানা নেই কোচ ডমিঙ্গোর, ‘এটা ক্রিকেটারদের আত্মবিশ্বাস, মনোসংযোগ না অতিরিক্ত চাপকী কারণ তা যদি জানতাম অবশ্যই কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করতাম।’ ফিল্ডারদের মতো বোলাররা এদিন হতাশ করেছেন। নাসুম গত ম্যাচের মতো কার্যকর হতে পারেননি। ৪৫ বলে ৫ ছক্কায় অপরাজিত ৫৯ করা হযরতুল্লাহ জাজাই ৪ ছক্কা মেরেছেন এক সাকিব আল হাসানকেই। মাহেদী ও মোস্তাফিজ কিপটে বোলিং করেও দলের প্রয়োজন মেটাতে পারেননি রান কম থাকায়। জাজাইয়ের সঙ্গে ৪৮ বলে ৪৭ করা উসমান ঘানির ৯৯ রানের জুটি আফগানদের জয় নিশ্চিত করে।

টি-টোয়েন্টিতে গত ১০ ম্যাচে বাংলাদেশের মাত্র একটি জয়। ডমিঙ্গো নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইলেন। ওই ম্যাচগুলোয় ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, উইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার মতো দলর বিপক্ষে হেরেছেন। যারা টি-টোয়েন্টিতে ভালো। এদিকে আফগানদের সঙ্গেও স্বচ্ছন্দে জয়ের দিন আসেনি। রেজাল্টের দিকে তাকালেও বাংলাদেশের চেয়ে আফগানরাও ভালো। টি-টোয়েন্টিতে শুধু বাংলাদেশই খারাপ! ব্যাটিং-ফিল্ডিংয়ের পুরনো রোগ না সারালে এই ফরম্যাটে বাংলাদেশের এই হতশ্রী অবস্থা চলবেই।