দেশে গুম-খুনের অভিযোগ তোলার বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তারা এতদিন যেসব কথাবার্তা বলে আসছেন তা বিশ^বাসীর কাছে পৌঁছে গেছে। যে কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা এসেছে। তিনি বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগ যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি করে রেখেছে, তার জন্য দায়ী প্রত্যেককে চিহ্নিত করে ভবিষ্যতে বিচারের আওতায় আনা হবে। জনগণ এদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাবে।’
গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী হেল্প সেলের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।
‘চলমান গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী সন্ত্রাসী ও বাকশাল পুলিশ-র্যাব কর্তৃক গুম, খুন ও নির্মম নির্যাতনের শিকার পরিবার’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে বিএনপির হেল্প সেল আর্থিক সহায়তা ও সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সরকারের নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের তুলে নিয়েছে গুম করেছে। কাউকে কাউকে খুন করেছে। আমরা যখন অভিযোগ করেছি তখন সরকার কানে নেয়নি। অথচ বিশ্বের সামনে আজ প্রমাণ হয়েছে।’
গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারগুলোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তোমরা একা নও, তোমাদের সঙ্গে সারা দেশ রয়েছে। দেশের মানুষ রয়েছে। মানুষ জেগে উঠছে, জেগে উঠবে ইনশাআল্লাহ। এই অন্ধকার কেটে যাবে ইনশাআল্লাহ।’
তরুণ প্রজন্মের উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের তরুণ-যুবকরা কাজ করছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই অন্ধকারের অবসান ঘটাবে। একটি গণতান্ত্রিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।’ সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার এবং জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য আহ্বান জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যখন গণতন্ত্র থাকে না তখন এই ধরনের ঘটনাগুলো ঘটতেই থাকে। আমাদের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অন্যায়ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে উল্লেখ করে দলের মহাসচিব বলেন, ‘তিনি বাইরে থাকলে তাদের (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতায় টিকে থাকা সম্ভব হবে না। তাই তাকে এভাবে আটকে রাখা হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্বাসিত করে রাখা হয়েছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হবে দেশের স্বার্থে, দেশের মানুষের স্বার্থে।’
অনুষ্ঠানে গুম-খুন-নির্যাতিতদের মধ্যে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহসিনা রুশদীর লুনা, ছাত্রদলের নুরুল আলম নূরুর মেয়ে উম্মে হাবিবা মীম, পারভেজ রেজার মেয়ে হৃদি, স্বেচ্ছাসেবক দলের কাউসার আহমেদের মেয়ে লামিয়া আখতার মীম, পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত শাহ রাজিব আহমেদ রিংগল তাদের বেদনার কথা তুলে ধরেন।
জাতীয়তাবাদী হেল্প সেলের সদস্য তানভীর আহমেদ রবিনের সভাপতিত্বে এবং ছাত্রদল নেতা মামুন খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আব্দুল সালাম, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল প্রমুখ।