জাল ভোট এড়াতে ভোট দিতে গেলে হাতের আঙুলে অমোচনীয় কালি লাগিয়ে দেওয়া হয়। ক্রেতার ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে এখন টিসিবির পণ্য কেনার লাইনেও তার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে।
রবিবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১২ নম্বর ওয়ার্ডের হাবুলের পুকুর পাড়ে দেখা যায় টিসিবির ট্রাকের সামনে নারী ও পুরুষের দুই লাইনই বেশ দীর্ঘ। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য ক্রেতাদের হাতে অমোচনীয় কালিতে ক্রমিক নম্বর বসিয়ে দিচ্ছিলেন ডিলারের কর্মী।
সেখানে টিসিবির ডিলার স্বপ্না এন্টারপ্রাইজের ট্রাক দাঁড়িয়েছিল। ডিলার প্রতিষ্ঠানের বিক্রেতা শাহ আলম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ভোক্তারাই ঝামেলা তৈরি করে ফেলছে। শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য কোনো পুলিশ রাখা হয়নি। আমরা সিরিয়াল লিখে দিয়েছিলাম।’
কিন্ত সেই সিরিয়ালও মানাতেও কষ্ট হচ্ছিল ডিলারের। আবার সিরিয়ালের বাইরেও একদল এসে তৃতীয় লাইন তৈরি করে ট্রাকের কাছাকাছি চলে আসলে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন বেচাকেনা বন্ধ করে বিক্রেতা আবার লাইন ঠিক রাখতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন।
কয়েকজন নারী অভিযোগ করেন, রোদের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে লাইনে থেকেও তারা ট্রাকের কাছাকাছি যেতে পারছেন না লাইনের সামনের দিকে জটলার জন্য।
কেউ কেউ কৌশলে একাধিক বার পণ্য কিনেছেন বলে অভিযোগ করেন লাইনে দাঁড়ানো অনেকে।
টিসিবি প্রতি ক্রেতার জন্য ১১০ টাকা লিটার দরে দুই লিটার সয়াবিন তেল, ৫৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি চিনি, ৩০ টাকা কেজি দরে ২ থেকে সর্বোচ্চ ৫ কেজি পেঁয়াজ এবং ৬৫ টাকা কেজি দরে সর্বোচ্চ দুই কেজি মসুর ডাল বিক্রি করছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৩ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়ের সামনের সরু গলিতে টিসিবির যে ট্রাক থেকে পণ্য বিক্রি হচ্ছিল, সেই ট্রাকের ডিলারের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আসে।