এবার বরগুনায় ‘ভারতীয় ডিভাইস’ লাগানো কচ্ছপ উদ্ধার

কয়েক দিনের ব্যবধানে খুলনার পর বরগুনাতেও জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস লাগানো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে খুলনার মতো বরগুনায় উদ্ধার হওয়া কচ্ছপটিতেও ভারতীয় ডিভাইস লাগানো রয়েছে।

কচ্ছপটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য রবিবার বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করেছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা। বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিউর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শনিবার বরগুনা সদর উপজেলার চালিতাতলীর পায়রা নদীতে মাসুম নামের এক জেলের জালে ধরা পড়ে কচ্ছপটি।

কচ্ছপটির খোলসে একটি ডিভাইস লাগানো আছে। এটি জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস বলে ধারণা করছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

জেলে মো. মাসুম জানান, গতকাল দুপুরে তার জালে কচ্ছপটি ধরা পড়ে। কচ্ছপের পিঠের খোলসে ডিভাইস লাগানো ছিল। ডিভাইসটিতে কোড নম্বর (৭১২৮৯০) দেওয়া আছে। পরে তিনি সাবেক ইউপি সদস্য খোকন মিয়াকে বিষয়টি জানালে খোকন মিয়া বন বিভাগকে খবর দেন। 

বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মতিউর রহমান বলেন, এটি বিরল প্রজাতির কচ্ছপ। আকারেও বেশ বড়। খোলসের ডিভাইসটি জিপিএস ট্র্যাকিং ডিভাইস বলে ধারণা করছি। কচ্ছপটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানকার গবেষণাগারে পরীক্ষার পর ডিভাইসটি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

তিনি আরও জানান, কচ্ছপটির ওজন প্রায় ১২ কেজি। ধারণা করা হচ্ছে, এটির বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছর।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার কাজীরহাট এলাকায় স্থানীয় এক জেলের জালে ভারতীয় স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপ ধরা পড়ে। গাজীরহাট ক্যাম্প পুলিশ সেটিকে উদ্ধার করে বন বিভাগকে খবর দেয়। এরপর রবিবার সকালে বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেটিকে উদ্ধার করে করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রে নিয়ে যান।

পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের বাটাগুরবাস্কা প্রজেক্টের স্টেশন ম্যানেজার আ. রব জানান, মূলত বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির এ বাটাগুরবাস্কা কচ্ছপের গতি ও আচরণবিধি, বিচরণ ক্ষেত্র, খাদ্যাভ্যাস এবং প্রজনন সম্পর্কে জানতে ভারতের টাইগার প্রজেক্ট গত ১৫ ফেব্রুয়ারি সেদেশের সজনেখালী এলাকার কুলতলীতে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো ১০টি পুরুষ কচ্ছপ অবমুক্ত করে। এর ১১দিনের মাথায় সেটি নদী-সাগর পার হয়ে এদেশের খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার গাজীরহাটে চলে আসে।

তিনি বলেন, ভারতের এ ধরনের স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার বসানো আরও একটি কচ্ছপ পূর্ব সুন্দরবনের বলেশ্বর ও সাউথখালীর নদীতে বিচরণ করছে। ভারতের টাইগার প্রজেক্টে স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার সমৃদ্ধ ১০ বাটাগুরবাস্কার পাশাপাশি ২শ কচ্ছপ রয়েছে। 

তিনি আরও জানান, এক সময়ে বাংলাদেশ, ভারত ও মিয়ানমারে বাটাগুরবাস্কা প্রজাতির কচ্ছপের অস্তিত্ব ছিল। এখন যা বিলুপ্ত প্রায়। এসব দেশের উপকূলীয় এলাকায় দুই একটির যৎসামান্য অস্তিত্ব রয়েছে। সেগুলো সংগ্রহ করেই এ গবেষণার কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন: খুলনা থেকে ভারতীয় স্যাটেলাইট ট্রান্সমিটার লাগানো কচ্ছপ উদ্ধার