লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার গোড়ল ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান নূরুল আমিনের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলার আসামিকে পালাতে সহযোগিতা করার অভিযোগ উঠেছে। এক মেয়েকে অপহরণ করে বিয়ের আয়োজনের খবরের ভিত্তিতে গত শনিবার রাতে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি প্রদীপ চন্দ্র রায়ের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নূরুল আমিন ও তার লোকজন পুলিশকে বাধা দেন। পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিত-া ও ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে চেয়ারম্যানের সহায়তায় আসামি প্রদীপ মেয়েটিকে নিয়ে অন্যত্র পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় অপহৃত মেয়ের বাবা নলিনী মোহন বর্মণ বাদী হয়ে গতকাল রবিবার আদিতমারী থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আদিতমারী উপজেলার দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গত ১ মার্চ কালীগঞ্জ উপজেলার প্রদীপ চন্দ্র রায় ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। এ ব্যাপারে ৫ মার্চ আদিতমারী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার রাতে অপহৃত মেয়েটিকে উদ্ধারে আদিতমারী ও কালীগঞ্জ থানা পুলিশ আসামি প্রদীপের বাড়িতে যৌথ অভিযান চালালে ইউপি চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বাধা দেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরুল আমিন বলেন, ‘ঘটনার দিনে প্রদীপের বাড়িতে বর ও কনেপক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছিল। এ সময় হেলমেট পরিহিত পুলিশের লোকজন এলে তাদের চিনতে সমস্যা হওয়ায় ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়।’
আদিতমারী থানার ওসি মোক্তারুল ইসলাম বলেন, ‘ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও তার দলবল পুলিশকে বাধা দেওয়ায় অপহৃতকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। জনপ্রতিনিধি হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও অপহরণ মামলার আসামিকে পালাতে সাহায্য করায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’