বঙ্গোপসাগরে বিপুল সামুদ্রিক সম্পদ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ব্লু ইকোনমি’ ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল, শক্তিশালী ও মজবুত করতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এখানে যেমন মৎস্য সম্পদ আছে, তেমনি অন্যান্য সামুদ্রিক সম্পদও আছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে এসব সম্পদের ব্যবহারে ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে ‘ব্লু ইকোনমি’ নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে। এসডিজি বাস্তবায়নে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
গতকাল রবিবার সকালে মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ৪১তম ব্যাচের ক্যাডেটদের ‘মুজিববর্ষ’ পাসিং আউট প্যারেডে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চট্টগ্রামের মূল অনুষ্ঠানে যুক্ত হন। মূল প্যারেড গ্রাউন্ডে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে গতকাল দুপুরে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত ১৮টি ওয়ার্ডের সড়ক অবকাঠামো ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার নির্মাণ ও উন্নয়ন (ফেজ-১)’ শীর্ষক প্রকল্পের কাজের উদ্বোধন করে সরকারপ্রধান বলেছেন, ঢাকায় আটকে পড়া পাকিস্তানিদের জন্য তার সরকার ভালো জায়গায় থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করবে।
সকালে চট্টগ্রামের ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেটদের প্যারেড অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে জাতিসংঘ ঘোষিত এমডিজি সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করেছি, এসডিজিও সাফল্যের সঙ্গে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। করোনার কারণে কিছুটা পিছিয়ে গেলেও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবহার করে এসডিজি-১৪-এর লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পদক্ষেপ নিয়ে যাচ্ছি। আমি আশা করি, এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তোমাদের (মেরিন ফিশারিজ একাডেমির ক্যাডেট) ভূমিকা থাকবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।’
সমুদ্র সম্পদ আহরণে মেরিন ক্যাডেটদের জ্ঞান কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা সব সময় সাহসের সঙ্গে কাজ করবে। তোমাদের যে লব্ধ জ্ঞান, এ ক্ষেত্রে আরও বেশি সহায়ক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
তিনি বলেন, ‘আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি, কাজেই এই মাছ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এই সম্পদ প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানি করেও প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। সে জন্য মৎস্য উৎপাদনে আমরা গবেষণা করে যাচ্ছি এবং অনেক সাফল্যও পেয়েছি। কিন্তু সমুদ্রসম্পদ আহরণে আমাদের এখনো অনেক কাজ করতে হবে এবং আমরা সেটি করব বলেই বিশ্বাস করি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘সারা বিশ্বে যে সময়ে সমুদ্র আইন প্রণয়নের কোনো সুনির্দিষ্ট মাত্রা ছিল না, তখনই ১৯৭৪ সালে জাতির পিতা প্রথম বাংলাদেশের জন্য ‘দ্য টেরিটেরিয়াল ওয়াটার্স অ্যান্ড মেরিটাইম জোনস অ্যাক্ট-১৯৭৪’ প্রণয়ন করেন, যা বিশ্বের প্রথম সমুদ্র আইন হিসেবে পরিচিত।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া মেরিন ফিশারিজ একাডেমির অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। আওয়ামী লীগ সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রথম মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে একটি আন্তর্জাতিকমানের মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপ নিতে শুরু করে।’
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম কৃতী ক্যাডেটদের মাঝে তাদের সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক বিতরণ করেন। এইচ এম বেনজীর আহমেদ সব বিষয়ে সর্বোচ্চ মান অর্জনকারী চৌকস ক্যাডেট হিসেবে ‘বেস্ট অলরাউন্ডার গোল্ড মেডেল’ লাভ করেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী স্বাগত বক্তৃতা করেন।
অনুষ্ঠানে মেরিন ফিশারিজ একডেমির কার্যক্রমের ওপর একটি ভিডিও চিত্র পরিবেশিত হয়।
এদিকে গতকাল দুপুরের দিকে গণভবন থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন (ভার্চুয়াল) করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিহারিরা পাকিস্তানে ফিরে যেতে চাইলেও পাকিস্তান সরকারের উদ্যোগ না থাকায় তাদের বাধ্য হয়ে জেনেভা ক্যাম্পের ছোট জায়গায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান বলেন, তাদের জন্য তিনি ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেবেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তারা খুব কর্মঠ, বিভিন্ন কাজ তারা খুব দক্ষতার সঙ্গে করতে পারেন। যে কারণে আমি চাচ্ছি তাদের জন্য একটা ভালো বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার এবং তারা যে যে কাজে পারদর্শী নিজেদের সে কাজে সম্পৃক্ত করে যাতে জীবন-জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারে, সে ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে। কারণ, মানুষকে মানুষ হিসেবেই আমরা দেখতে চাই।’
প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে আরও বড় জায়গায় বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোনে, যেখানে কাজের ব্যবস্থা রয়েছে, সেখানে এই পুনর্বাসনটা করা যেতে পারে বলেও তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।