বিয়ের জন্য বাড়ি থেকে ডেকে দল বেঁধে ধর্ষণ

রাজধানীর ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বিয়ের জন্য প্রেমিকের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালানো এক তরুণীকে চার বন্ধু মিলে ধর্ষণ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার বিকেলে ডেমরার একটি আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। পরে ওই তরুণীকে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়। পথচারী এক নারী চিকিৎসার জন্য তাকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।

তরুণীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া স্থানীয় এক নারী জানান, সন্ধ্যার দিকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার মোড়ে অসুস্থ অবস্থায় পড়েছিল ওই তরুণী। তার শরীর থেকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উঠে দাঁড়াতেও পারছিল না। তখন সে সাহায্য চাইলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। ভুক্তভোগী ওই তরুণী হাসপাতালে পুলিশের কাছে অভিযোগ করে জানান, দূরসম্পর্কের চাচাতো ভাই তামজিদ হোসেন আদরের (২২) সঙ্গে এক বছর তিন মাস ধরে তার প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। দুজনই থাকেন যাত্রাবাড়ীতে পাশাপাশি এলাকায়। দুজনে এবার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছেন। তিন দিন আগে তারা বিয়ে করবে বলে বাসা থেকে চলে আসেন। এই তিন দিন বিভিন্ন জায়গায় ছিলেন। সবশেষ গতকাল বেলা ৩টার দিকে ওই তরুণীকে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার এলাকার একটি হোটেলে নিয়ে যান তামজিদ।

পুলিশের কাছে তরুণী অভিযোগ করে বলেন, হোটেলে গিয়ে রুমটিতে আরও তিন যুবককে দেখতে পান। তখন তামজিদ জানায়, তারা বিয়ের সাক্ষী হতে এসেছে। এরপর তাকে হোটেলে আটকে তারা চারজন মিলে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি দেখায় ধর্ষণের কথা কাউকে জানালে মেরে ফেলা হবে এবং আগে ধারণ করা নগ্ন ছবি ছড়িয়ে দেবে। তরুণী ঘটনাটি কাউকে জানাবে না বলে তাদের আশ্বস্ত করলে তাকে সেখান থেকে চলে আসতে দেয়। পরে বাইরে এসে রাস্তায় পড়ে গেলে স্থানীয়রা তাকে দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের সহকারী ইনচার্জ (এএসআই) আব্দুল খান বলেন, রাতে ভুক্তভোগী তরুণীকে দুই পথচারী নারী হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তাকে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্তারিত তদন্তের জন্য থানা পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়েছে।

ডেমরা থানার ওসি খন্দকার নাসির উদ্দিন গতকাল রাতে বলেন, ‘গণধর্ষণের একটি সংবাদ হাসপাতাল থেকে পেয়েছি। বিস্তারিত জানার জন্য হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’