সর্বজনীন পেনশন আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ট্রাম্পকার্ড!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারে সর্বজনীন পেনশন সুবিধাকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলের নেতারা মনে করছেন, এ পেনশন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন হলে ভোটের মাঠে আওয়ামী লীগের পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হবে। স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য পেনশন সুবিধা হবে বড় সুখবর। এতে করে তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ হবে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয়তা আরও বেড়ে যাবে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ভোটের আগে এ সুবিধা চালু করা হলে দেশের সিংহভাগ মানুষ আওয়ামী লীগের প্রতি আস্থা-বিশ^াস রাখবে। তাই ভোটের আগে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরই সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারকরা বলছেন, ভোটের আগে চালু হবে পেনশন ব্যবস্থা। তবে শুরুটা হবে স্বল্প পরিসরে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা প্রবর্তনের অঙ্গীকার ছিল। তাছাড়া সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদে বলা আছে, বার্ধক্যজনিত কারণে যারা অভাবগ্রস্ত হবেন তাদের এ সুবিধা দেওয়া হবে। এ সাহায্য পাওয়া রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিকের মৌলিক অধিকার।’ অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এ ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রত্যেক মানুষ লাভবান হবেন। প্রথম দিকে এ ব্যবস্থা ঐচ্ছিক হবে। পরে এটা সবার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। তবে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মীরা এ কর্মসূচির বাইরে থাকবেন।’

চলতি বছর ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে গণভবনে একটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সামনে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার একটি কৌশলপত্র উপস্থাপন করেন অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আবদুর রউফ তালুকদার। ওই কৌশলপত্রে বলা হয়েছে, আগামী এক বছরে সরকার প্রায় ৮ কোটি ৩২ লাখ মানুষকে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে চাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণার পরই অর্থমন্ত্রী ও এ সংক্রান্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা বলেন, এ বছর না হলেও নির্বাচনী বছরে পেনশন সুবিধা চালু হবে। কারণ এটি আগামী নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মসূচি। চলতি বছর বাজেটে বরাদ্দ রাখার কথাও জানিয়েছেন সরকার ও দলের নীতিনির্ধারকরা।

আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী সূত্রগুলো দেশ রূপান্তরকে জানায়, দলের নির্বাচনী প্রচারে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা অগ্রাধিকার পাবে। এর পাশাপাশি জনগণ সরাসরি সুফল পেয়েছেন এমন উদ্যোগগুলোও নির্বাচনী প্রচারে থাকবে। যেমন গৃহহীনদের ঘর নির্মাণ করে দেওয়া, অবকাঠামো উন্নয়ন, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলাসহ সরকার যেসব ‘মেগা প্রজেক্ট’ বাস্তবায়ন করেছে সেসব বিষয়ও নির্বাচনী প্রচারে প্রাধান্য পাবে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বর্তমান সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের মধ্যে সর্বজনীন পেনশন সুবিধা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জনকল্যাণমূলক।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা বাস্তবায়ন হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইমেজ বাড়বে। জনগণ উপকৃত হবে।’

সরকারের ও আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতা দেশ রূপান্তরকে আরও বলেন, পেনশন সুবিধা বাস্তবায়ন হলে দেশের মানুষের অন্তরে জায়গা করে নিতে আওয়ামী লীগকে তেমন বেগ পেতে হবে না। ভোটের সময় ভোটারদের দরজায় কড়া নাড়াও নৌকার প্রার্থীদের জন্য সহজ হয়ে উঠবে। মানুষের সাড়া মিলবে। ওই নেতারা আরও বলেন, এ উদ্যোগ ভীষণ প্রশংসিত হবে ভোটারদের ভেতরে। তারা বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিতে মানুষ উদ্বুদ্ধ হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন থেকে। তেমনি সর্বজনীন পেনশন সুবিধাও আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিতে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করবে। দেশের দরিদ্র মানুষ আওয়ামী লীগ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আবারও আস্থা রাখবে।

আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সর্বজনীন পেনশন সুবিধা নিয়ে ক্ষমতাসীন দলের অভ্যন্তরে নানা কল্পনা-জল্পনা থাকলেও এখনই তা জানান দিতে চায় না আওয়ামী লীগ। কারণ ‘পজিটিভ’ এ উদ্যোগটি প্রশ্নবিদ্ধ করতে চায় রাজনৈতিকবিরোধী পক্ষগুলো। তবে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে সংযোজন করা হবে।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতিম-লীর সদস্য কাজী জাফরউল্যাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, “ভোটের সঙ্গে পেনশন ব্যবস্থার কোনো সম্পর্ক নেই। আমি শুধু মনে করি ‘ইট ইজ এ গুড মুভ’। এটি দেশের মানুষের জন্য সরকারের পজিটিভ উদ্যোগ।” তিনি বলেন, কর্মজীবী-স্বল্প আয়ের মানুষগুলোর মধ্যে পেনশন ব্যবস্থা নতুন স্বপ্ন দেখাবে।

জাফরউল্যাহ বলেন, ‘কর্মজীবী মানুষগুলো শেষ জীবনে একটা সময়ে হতাশায় ভোগেন। সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা ওই মানুষগুলোর ভেতরে ভালোভাবে বাঁচার আশা তৈরি করবে।’