তরমুজের অজানা রোগে ক্ষতির মুখে কৃষক

পটুয়াখালীতে আগাম তরমুজ চাষে মিলেছে ভালো ফলন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়া, সার সংকটসহ অজানা রোগের আক্রমণে ফলসহ গাছ মরে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন কয়েক হাজার চাষি। নানান সংকটের মধ্যেই আগাম উৎপাদিত এসব তরমুজ যাচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। আকারে বড়, টকটকে লাল আর সুস্বাদু এ তরমুজের উৎপাদন ধরে রাখতে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা প্রদানসহ কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর দাবি কৃষকসহ সংশ্লিষ্টদের।

এ বছর পটুয়াখালীতে ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আগাম তরমুজের চাষ হয়েছে। আগাম চাষে ভালো মুনাফা পাওয়ায় প্রতি বছরই এ খাতে বাড়ছে বিনিয়োগসহ আবাদি জমি। জেলার গলাচিপা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালীতে তরমুজের চাষ বেশি হয়। চলতি মৌসুমে অসময়ের বৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে গেছে অধিকাংশ তরমুজক্ষেত। বেড়িবাঁধের বাইরের ক্ষেতে জোয়ারের লবণপানি প্রবেশ করে জমিতে দেখা দিয়েছে লবণাক্ততা। হঠাৎই দেখা দিয়েছে লাল পোকার আক্রমণ। এ ছাড়া কোনো এক অজানা রোগের কারণে তরমুজগাছ ফেটে গিয়ে মরে যাচ্ছে। রোগের পাশাপাশি বীজ ও সারের দাম বেড়ে যাওয়াতেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক।

চাষিদের অভিযোগ, জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেলেও সময়মতো এর প্রতিরোধে লাল সার পাওয়া যায়নি। লাল পোকা দমনের সঠিক পদ্ধতি জানা না থাকায় গাছ রক্ষা করা যায়নি। এ ছাড়া গাছ ফেটে যাওয়ার কোনো সমাধান তার পাননি। ফলে ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষক। এজন্য কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের তদারকিসহ অসহযোগিতাকে দায়ী করেছেন তারা।

রাঙ্গাবালীর মৌডুবী ইউনিয়নের জাহাজমারা চরের তরমুজচাষি সুমন মল্লিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত বছরের ৯০০ টাকার সার এ বছর ১৫০০ টাকা, গত বছরের ১৫০০ টাকার তরমুজের বীজ এ বছর তিন হাজার টাকা হয়েছে। এ ছাড়া ৬৫ টাকার ডিজেল এখন ৮৫ টাকা। চাষ উপকরণের মূল্য বেড়ে যাওয়ায় এ বছর তরমুজ চাষের শুরুতে বড় ধরনের ধকলের মুখে পড়তে হয়েছে।’

ওই এলাকার কৃষক মনির বলেন, ‘একটি ঝাড়ে একটি তরমুজ রাখতে হয়। গড়ে প্রতিটি তরমুজ উৎপাদনের খরচ পড়ে ২০০ টাকা। আকারে বড় না হওয়ায় এর সঠিক বাজার মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না।’

মৌডুবীর খাসমহল এলাকার কৃষক জুলহাস মিয়া বলেন, ‘হঠাৎ গাছ ফেটে মারা যাওয়ার বিষয়ে স্থানীয় কৃষি বিভাগকে জানালেও তারা কোনো সদুত্তর কিংবা প্রতিকারের পরামর্শ দিতে পারেননি। ফলে ক্ষেতের পর ক্ষেতে তরমুজগাছ মরে গেলেও তাদের রক্ষা করা যায়নি।’

তবে এত কিছুর পরেও জেলা থেকে চলতি মৌসুমে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার তরমুজ বাজারজাতের আশা ব্যক্ত করেন রাঙ্গাবালী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘সার সংকটের বিষয়টি নিয়ে কোনো কৃষক অভিযোগ করেননি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে বেশ কিছু ক্ষেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। আর তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গাছ ফেটে যাওয়ার কারণ হতে পারে।’ মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা তরমুজচাষিদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।