দৌলতদিয়া ঘাট পারাপারের অপেক্ষায় হাজারো পণ্যবাহী ট্রাক

দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ফেরির সংকট অনেকটা কমে গেলেও ঘাট সমস্যা ও নাব্য সংকট এখনো কাটেনি। এসব কারণে নৌপথের উভয় ঘাটে নিত্য যানজট লেগেই থাকছে।

শুক্রবার সকালে দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরি পারের অপেক্ষায় আটকা পড়ে রাজধানীমুখী যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ সহস্রাধিক যানবাহন। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়ার ৩ কিলোমিটারের এই নৌপথ পার হতে ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে, আর এতে ভোগান্তি শিকার হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাট অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ২০টি ফেরি রয়েছে। ১৯টি ফেরি নিয়মিতভাবে যানবাহন পারাপারে ব্যবহার হচ্ছে এর  মধ্যে ১১টি রো রো (বড়), ছয়টি ইউটিলিটি (মাঝারি), একটি কে-টাইপ (ছোট) ও একটি ডাম্প ফেরি।

তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে রয়েছে ঘাটের সংকট, এই প্রান্তে সাতটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটি ঘাট বন্ধ রয়েছে। নদীভাঙনের কবলে পড়ে ভেঙে যাওয়া ১ ও ২নং ঘাট মেরামত না করায় ওই ঘাট দুটি এখনো অব্যবহৃত অবস্থায় আছে।

অন্যদিকে ৬ নম্বর ঘাটে পন্টুন ও সংযোগ সড়ক থাকলেও ঘাটের চ্যানেলে গভীরতা কম থাকায় সেটও ব্যবহার হচ্ছে না। এই সব মিলিয়ে পর্যাপ্ত ফেরি থাকার পরও সুফল মিলছে না।

সরেজমিন শুক্রবার দৌলতদিয়া ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ঘাটের জিরো পয়েন্ট হতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এলাকায় ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান ঘাট পার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই যানজটে যাত্রীবাহী বাসের সংখ্যা অনেকটা কম ছিল।

ঘাট এলাকা ও মহাসড়কে অবস্থানরত কয়েকটি ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের চালকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, অনেকেই গত রাত (১০ মার্চ) ঘাটে এসেছে তবে যাত্রীবাহী বাসের জন্য তাদেরকে পার করানো সম্ভব হয়নি। কেউ রাত ১০টায় কেউ ১২টায় ঘাট এলাকায় এলেও আজ (১১ মার্চ) সকাল ১১টায় ঘাট থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে কেউ আরও দূরে অবস্থান করছে।

দীর্ঘ ১১ -১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করার তাদের নানান ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক মো. নাসির হোসেন বলেন, বর্তমানে এ নৌপথে ১৯টি ফেরি চলাচল করছে। তার মধ্যে রো রো ১১টি, ইউটিলিটি ৬টি ও কেটাইপ ১টি ও ডাম্প ১টি ফেরি চলাচল করছে।

তিনি আরও বলেন, গত রাতে যাত্রীবাহী বাসের অতিরিক্ত চাপ ও কাঁচামালের ট্রাকের চাপ হওয়ার কারণে সে সকল বাস ও ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পারাপারের জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তে অপচনশীল পণ্যবাহী ট্রাকের সারি তৈরি হয়েছে।

তবে গত দুদিন গাড়ির কোনো চাপ ছিল না। তবে আমরা আশা করছি সন্ধ্যার আগে যানবাহনের চাপ কমে যাবে।