অনিয়ম করে মেয়রের বাড়ির কেয়ারটেকারকে হাট ইজারার অভিযোগ

সিরাজগঞ্জে এক পৌরসভার একটি হাট-বাজারের ইজারায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। জালিয়াতির মাধ্যমে মেয়রের বাড়ির কেয়ারটেকারকে ওই ইজারা দেয়া হয়েছে।

শাহজাদপুর পৌরসভার দাড়িয়াপুর হাট-বাজারের ইজারায় এই অনিয়ম হয় বলে অভিযোগ।

এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে দরপত্রে অংশগ্রহণকারী দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর এ অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগকারী দুই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহবুবে ওয়াহেদ শেখ কাজল ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক মো. রাজিব শেখ এই অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে তারা বলেছেন, শাহজাদপুর পৌরসদরের দাড়িয়াপুর হাট-বাজার ইজারা প্রদানে কৌশলে অনিয়ম ও জালিয়াতি করা হয়েছে। পৌরমেয়র মনির আকতার খান তরু লোদী তার বাড়ির কেয়ারটেকার আবু বক্কারকে সর্বোচ্চ দরদাতা দেখিয়ে ইজারা দিয়েছেন।

অভিযোগে আরও বলেছেন, ২০১৯-২০ অর্থ বছরে এ হাট-বাজারটি ১ কোটি ২৫ লাখ টাকায় উন্মুক্ত নিলাম ডাকে ইজারা প্রদান করা হয়। এতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে। গত ২০২০-২১ অর্থ বছরে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে গোপনে নিজ বাড়ির কেয়ারটেকার রফিকুল ইসলামের নামে মাত্র ৭৪ লাখ টাকায় ইজারা প্রদান করা হয়। ফলে ওই বছর সরকার ৫১ লাখ টাকা রাজস্ব হারায়।

ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থ বছরেও একইভাবে পছন্দের ব্যক্তির নামে ইজারা দেওয়ার পাঁয়তারা শুরু করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় ঠিকাদারদের অভিযোগের কারণে পৌর মেয়র উন্মুক্ত দরপত্র ফরম বিতরণ করে দরপত্র আহ্বান করেন।

দরপত্র ফরম বিক্রির শেষ তারিখ গত ৮ মার্চ যথা সময়ে ফরম সংগ্রহ করে দরপত্র জমাদানের শেষ তারিখ ৯ মার্চ দুপুর একটার আগেই সিলগালা করা খামে পৌরসভার নির্ধারিত সিলগালা করা বাক্সে মাহবুবে ওয়াহেদ শেখ কাজল ১ কোটি ৬১ লাখ টাকা ও মো. রাজিব শেখ ৯৫ লাখ টাকা দর নির্ধারণ করে দরপত্র জমা দেন। ওই দিন বিকেল ৩টার দরদাতাদের উপস্থিতিতে বাক্স খোলার নিয়ম থাকলেও শাহজাদপুর পৌর মেয়রের অনুপস্থিতি দেখিয়ে পৌর কর্তৃপক্ষ যথা সময়ে বাক্স না খুলে পরদিন ১০ মার্চ বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার পরে খোলেন।

এ সময় দেখা যায় ৩টি দরপত্র জমা পড়েছে। জমাকৃত দুটি ছাড়াও শাহজাদপুর পৌর মেয়র মনির আকতার খান তরু লোদীর বাড়ির কেয়ারটেকারের নামে অপর একটি দরপত্রসহ মোট ৩টি দরপত্র জমা পড়েছে। তিনি দর দিয়েছেন ১ কোটি ৬২ লাখ টাকা। কিন্তু এ সময় দেখা যায়, দরপত্র জমাদানের বাক্সের সিলগালা করা তালার গায়ে কোনো সিলগালা করা নেই।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মাহবুবে ওয়াহেদ শেখ কাজল বলেন, পৌর মেয়র মনির আকতার খান তরু লোদী গত ৯ মার্চ রাতে গোপনে দরপত্র বাক্স খুলে আমার দর দেখে তার চেয়ে মাত্র ১ লাখ টাকা বেশি দর যুক্ত করে তার পছন্দের আবু বক্কারের নামে ইজারা বাগিয়ে নিয়ে নিজে আর্থিক লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছেন। ন্যায় বিচারের স্বার্থে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।

এ বিষয়ে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী হারুন অর রশীদ জানান, গত ৯মার্চ বিকেল ৩টায় টেন্ডার ওপেন হওয়ার কথা থাকলেও মেয়র মহোদয় উপস্থিত না থাকায় তার পরামর্শক্রমে পরদিন ১০ মার্চ বেলা ১১টায় টেন্ডার ওপেন করা হয়। এতে নিয়মের কিছুটা হেরফের হলেও কোনো দুর্নীতি হয়নি।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর পৌর মেয়র মনির আকতার খান তরু লোদী বলেন, টেন্ডার ড্রপ এবং ওপেন নিয়ম অনুযায়ী যথা সময়েই হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি বা জালিয়াতি হয়নি। আমাদের কাছে অফিশিয়ালি সকল প্রমাণাদি আছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তরা আমার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। আমি এটা হাতে পেয়েই জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর পাঠিয়ে দিয়েছি।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহাম্মদ বলেন, এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি ও যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে।