গাজীপুরের শ্রীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে ১১টি জেব্রার মৃত্যুর ঘটনায় ওই পার্কের প্রত্যাহার হওয়া ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে এবার মামলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে পার্কের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহকারী বন সংরক্ষক রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর মডেল থানায় এ মামলা করেন। শ্রীপুর মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঁইয়া দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহারে তবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রাণীর প্রতি অবহেলা, সরকারি কাজে অনিয়ম ও সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় তাকেই একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
মামলা এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে মোট ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়। এসব প্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা যথাসময়ে যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে জানাননি তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমান। এমনকি তিনি জরুরিভাবে চিকিৎসক বোর্ডের মিটিং ডাকেননি বা সংশ্লিষ্ট থানায় জিডি করেননি। এ ছাড়া মৃত ১১টি জেব্রার মধ্যে ৩টির পেটে আঘাতের চিহ্ন ছিল। এর কারণ হিসেবে তবিবুর রহমানের বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হয়নি।
গত ২৬ জানুয়ারি সাফারি পার্কে প্রাণী মৃত্যুর ঘটনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে একদফা সময় বাড়িয়ে ২০ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় ওই প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা হয়। সেই সভায় দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এর আগে জেব্রা মৃত্যুর ঘটনায় ৩১ জানুয়ারি সাফারি পার্কের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তবিবুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।
সাফারি পার্কে চলতি বছরের ২ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১১টি জেব্রার মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া ১২ জানুয়ারি ১টি বাঘের মৃত্যু হয়। পরে ৩ ফেব্রুয়ারি একটি সিংহীর মৃত্যু হয়। এর আগে পার্কে বিভিন্ন সময়ে জিরাফ, জেব্রাসহ বেশ কিছু প্রাণীর মৃত্যু হয়েছে। সিআইডির প্রতিবেদনে মারা যাওয়া একটি জেব্রার শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়। টানা প্রাণী মৃত্যুর এসব ঘটনায় আলোড়ন তৈরি হয়। এসব ঘটনায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তে ধারাবাহিকভাবে সাফারি পার্কের চার কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হয়।