সাবেক কৃষি কর্মকর্তার বাসায় ৫১২ লিটার সয়াবিন তেল

বাজারে সয়াবিন তেলের সরবরাহ ও দাম নিয়ে অস্থিরতার মধ্যে মুনাফার লোভে মজুদ করার অভিযোগে সাবেক এক কৃষি কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বাসা থেকে ৫১২ লিটার সয়াবিন জব্দ করা হয়েছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকার বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরও তথ্য জানার জন্য গতকাল শনিবার আদালতের মাধ্যমে সাবেক এই কৃষি কর্মকর্তাকে এক দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম মো. লায়েকুজ্জামান। তিনি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সাবেক উপ-সহকারী কর্মকর্তা। গত বছর তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান।

পুলিশ জানিয়েছে, গত ছয় দিন বিভিন্ন জায়গা থেকে তেল সংগ্রহ করে বাসায় মজুদ করেন লায়েকুজ্জামান। যেহেতু বর্তমানে তেলের দাম বাড়তির দিকে, কয়েক দিন পর রমজানে আরও দাম বাড়তে পারে। মুনাফা করার জন্য তিনি তেল মজুদ করেছেন। লালমাটিয়া এলাকার ১/১ কাজী নজরুল ইসলাম রোডের একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। ওই বাসা থেকেই তীর ও বসুন্ধরা ব্র্যান্ডের ৫১২ লিটার সয়াবিন তেল জব্দ করা হয়। লায়েকুজ্জামানের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।

গতকাল শনিবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার তার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে জানান, লায়েকুজ্জামান গত ৬ মার্চ কৃষি মার্কেটের সূর্য এন্টারপ্রাইজ নামের একটি দোকান থেকে ৪০ লিটার সয়াবিন তেল কিনে রসিদ সংগ্রহ করেন। রসিদটি যাচাই করে দেখা গেছে দুটি কার্টনে ১৫৯ টাকা লিটার দরে এই তেল কেনা হয়েছে। বাকি তেল তিনি বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে সূর্য এন্টারপ্রাইজের ওই রসিদে নিজ হাতে পরিমাণ লিখে বিভিন্ন দাম বসিয়ে দিয়েছেন, যা ফৌজদারি অপরাধ।

পুলিশ কর্মকর্তা আরও বলেন, লায়েকুজ্জামান ব্যবসায়ী নন, তেলের ডিলারও নন। মুনাফার জন্য এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য তেল মুজদ করেছেন তিনি।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা বিপ্লব বলেন, লায়েকুজ্জামানের পেছনে আরও কেউ রয়েছেন কিনা, তিনি অতীতে এমন কাজ আরও করেছেন কিনা রিমান্ডে তা জানা যাবে।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কৃষি মার্কেটের ওই ব্যবসায়ী কেন একজনের কাছে একবারে ৪০ লিটার সয়াবিন বিক্রি করলেন এ বিষয়ে তাকেও জিজ্ঞাসাবাদ করব।