বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) নবনির্বাচিত সভাপতি মো. শাহ আলম বলেছেন, বিএনপি যদি গাছ হয়, আওয়ামী লীগ যদি গাছ হয়, তাহলে সেখানে পরগাছার ভূমিকা আমরা আর নেব না। আমরা বিকল্প গড়তে চাই, ক্ষমতায় যেতে চাই। আমরা ব্যবস্থা বদল করতে চাই। প্রকৃত গণতন্ত্র কায়েম করতে চাই।’
রবিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় শাহ আলম এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কারও ক্ষমতায় যাওয়ার বাহন হতে চাই না। আমরা কাউকে ক্ষমতায়ও রাখতে চাই না। আমরা কারও ক্ষমতার সিঁড়ি হিসেবে ব্যবহৃত হব না। আমরা আর পরগাছাবৃত্তি করব না।’
নির্বাচন কমিশন আইনের সমালোচনা করে সিপিবি সভাপতি বলেন, যে আইনটা হয়েছে, এটা একটা কালো আইন। শেখ হাসিনার ক্ষমতা তো চিরস্থায়ী হবে না। কিন্তু স্বৈরশাসক যারাই আসবে, বিশেষ করে সামরিক স্বৈরশাসকদের জন্য এটা পোয়াবারো হয়েছে। কারণ, নির্বাহী প্রধানই তো নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করবেন। এটা চুয়াত্তরের বিশেষ ক্ষমতা আইনের মতো কালো আইন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই আইনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের অধিকার ছিনতাই হয়ে গেছে। এই আইন বাতিল করে জনগণের ভোটের অধিকার ফেরাতে আবার আমাদের দেশের জনগণকে রক্ত দিতে হবে।’
২৮ মার্চ হরতালের বিষয়ে শাহ আলম বলেন, ‘২৮ মার্চ হরতাল আমরা ডেকেছি। বিএনপির সমর্থন তো আমরা চাইনি। তার রাজনীতি সে করুক। তার কোমরে জোর থাকলে সে আলাদা করুক। হরতালে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু বিএনপি কি মুক্তবাজারের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে? বিএনপি কি রেশনশপ চালু করার পক্ষে থাকবে? গণবণ্টন–ব্যবস্থার পক্ষে, শিক্ষা–স্বাস্থ্য সরকারীকরণের পক্ষে সে থাকবে? বিএনপি নিজেই মুক্তবাজারপন্থী।’
সিপিবির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমাদের এই রাজনীতিকে যারা ভন্ডুল করতে চাচ্ছেন, তাদের হুঁশিয়ার করতে চাই। এই নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। গোটা বাংলাদেশে আমাদের পার্টি নেমে গেছে। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ২৮ মার্চ বাম জোট হরতাল ডেকেছে। আমরা মাঠে আছি, থাকব। মামলা-হামলার ভয় দেখিয়ে আমাদের লাভ নেই।’
এ সময় ডিজিটাল নিরাপত্তার সমালোচনা করে শাহ আলম বলেন, সাংবাদিকতাকে চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। কেন করা হয়েছে? কারণ, যে লুটেরারা ক্ষমতায় আছে, অবাধ সাংবাদিকতা যদি চলে, তাহলে লুটেরাদের সব কর্মকাণ্ড তো বেরিয়ে আসবে। সে জন্য সাংবাদিকদতার স্বাধীনতা তারা দেবে না। আজ দেশ দুই ভাগ হয়ে গেছে। একদিকে ৯৫ ভাগ, আরেক দিকে ৫ ভাগ।
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রসঙ্গে শাহ আলম বলেন, ‘মানুষ যদি গণ–আন্দোলনে নেমে যায়, আমরা ভোটে যাব কেন? গণ–আন্দোলন করে রেজিম (সাম্রাজ্য) পরিবর্তন করে তারপর ভোটে যাব। মানুষ যদি ঘুমিয়ে থাকে, তাহলে আমরা ভোটে যাব। ভোটের কেন্দ্র পাহারা দিয়ে জনগণের ভোটের অধিকার কায়েম করতে হবে। এই আওয়ামী লীগ, সেই আওয়ামী লীগ নয়। মুক্তিযুদ্ধের চার মূলনীতি থেকে তারা দূরে সরে গেছে।’
এ সময় সিপিবি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি অশোক সাহা ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর এবং দক্ষিণ জেলার সভাপতি কানাইলাল দাশ ও সাধারণ সম্পাদক শওকত আলী উপস্থিত ছিলেন।