‘ফেইসবুকে মন্তব্যের’ জেরে ছুরি মেরে ৩ খুন

ফেইসবুকে ‘আপত্তিকর মন্তব্যের’ জেরে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় তিন তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ১১টার দিকে উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও চরপাড়া এলাকার মরিয়ম ফাউন্ডেশন আল্লাহু জামে মসজিদের পাশে এ ঘটনা ঘটে। সে সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই ঘটনায় কাপাসিয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। 

কাপাসিয়া থানার এসআই আবদুর রউফ জানান, নিহতরা হলো উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও চরপাড়া এলাকার মৃত হিরন মিয়ার ছেলে রবিন (১৫), একই এলাকার মৃত আলম মিয়ার ছেলে নাঈম (১৪) এবং মো. আলম হোসেনের ছেলে ফারুক (২৫)।

স্থানীয়রা জানান, শনিবার রাত ১১টায় উপজেলার আড়াল জিএল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ওয়াজ মাহফিল থেকে রবিন, নাঈম ও ফারুক বাড়িতে ফিরছিল। বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছালে আগে থেকে ওত পেতে থাকা চৌদ্দ পনের জনের একদল তরুণ মারতে আসে নাঈমকে। এসময় নাঈমের বড় ভাই মোজাম্মেল সন্ত্রাসীদের কাছে তার ভাইকে মারার কারণ জানতে চাইলে তারা বলে, নাঈম এক নারীর ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে আপত্তিকর কিছু ছবি দিয়েছে।

প্রত্যক্ষ্যদর্শী মোজাম্মেল বলেন, আমরা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওই তরুণরা ফারুকের পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করে। পরে পর্যায়ক্রমে নাঈম ও রবিনকে ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে রাতে আহতদের উদ্ধার করে পার্শ্ববর্তী থানা নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক নাঈম ও ফারুককে মৃত ঘোষণা করেন। এসময় রবিনের অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিবার সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিনের মৃত্যু হয়।

কাপাসিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আহত হৃদয় ও ফাহিম গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত ফারুকের পিতা আলম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৪ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

কাপাসিয়া থানার ওসি এএফএম নাসিম জানান, সংবাদ পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতার হাতে আটক ৬ জনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি থাকায় চিকিৎসার জন্য রাতে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।