নারী ক্রিকেটের মাইলফলক জয়

হ্যামিল্টনে ওয়ানডে বিশ্বকাপে ৯ রানে পাকিস্তানকে হারিয়েছে বাংলাদেশের নারীরা। মার্চে এমন জয়কে ঐতিহাসিক ভাবার অনেক কারণ আছে। প্রথম কারণ বিশ্বকাপে এটা নারীদের প্রথম জয়। আর সেই জয়টা এমনভাবে এসেছে যে ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপে বুলবুল-সুজনদের জয়ের কথা মনে পড়তে বাধ্য। ওয়াসিম আকরামের পাকিস্তান দলকে হারিয়ে সেদিন উদীয়মান ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিল বাংলাদেশ। নারীরাও গতকাল পাকিস্তানকে হারিয়ে কি তেমন কিছুর ইঙ্গিত দিচ্ছে?

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের প্রথম অধিনায়ক রকিবুল হাসান মনে করেন পাকিস্তানের বিপক্ষে জ্যোতি-পিংকিদের এই জয় ধারাবাহিক উন্নতির স্মারক। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেছেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি ক্রিকেটে নারীরা যে উন্নতি করছে এই জয় তার প্রমাণ। ২০১৮ সালে ভারতকে হারিয়ে তারা এশিয়া কাপ (টি-২০) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারিয়ে নিজেদের সাফল্যের মুকুটে নতুন পালক যুক্ত করল নারীরা।’ এমন জয়ে শুধু আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর না তুলে ভবিষ্যতে কী করা উচিত সেটাও জানিয়েছেন তিনি, ‘এখন আমাদের উচিত নারী ক্রিকেটের উন্নতির জন্য আরও বিনিয়োগ করা। একটা কথা স্বীকার করতে হবে আমাদের মেয়েরা অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড কিংবা নিউজিল্যান্ডের তুলনায় শারীরিক সক্ষমতায় পিছিয়ে আছে সেটা অনুশীলনের মাধ্যমে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। মেয়েরা পাওয়ার ক্রিকেটে একটু পিছিয়ে আছে। এই দুর্বলতাটুকু ছাড়া আমি মনে করি বোলিং এবং ব্যাটিং দক্ষতায় তারা অন্যদের সমকক্ষ। শেষে বলব ৯ রানের জয়টা বড় ব্যাপার নয়। আসল ব্যাপার হচ্ছে ঐতিহাসিক মার্চে তারা পাকিস্তানের বিপক্ষে জয় ছিনিয়ে নিয়ে আমাকে তো বটেই গোটা বাঙালি জাতিকেই গর্বিত করেছে।’

বিসিবির কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের কাছে নারীদের জয়টা পেশাদারিত্বের ঝলক। ‘২০১৮ সালে ভারতকে এশিয়া কাপে হারানোর মাধ্যমে মেয়েরা নিজেদের ক্ষমতার প্রতি বিশ্বাসটা অনেক বাড়িয়ে নিতে পেরেছিল। বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই জয়টাও তাদের অনেক এগিয়ে দেবে। আজ মেয়েদের খেলার মধ্যে এক ধরনের আত্মবিশ্বাস ফুটে উঠেছে। চাপের মুখে তারা ভেঙে পড়েনি। ব্যাটিংয়ে যখন জুটি গড়ার দরকার ছিল তখন সাবধানে খেলেছে। পরে গতি বাড়িয়ে দ্রুত রান তুলেছে। পরে বোলিংটাও দারুণ করেছে। সব মিলিয়ে খেলার মধ্যে পেশাদারিত্বের একটা ছোঁয়া টের পেলাম। ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রথম জয়কে তিনি ক্রিকেটের জন্য দারুণ এক অর্জন মনে করেন, ‘মেয়েরা আগে একাধিক টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলেছে। জিততে পারেনি। সেই তুলনায় ওয়ানডে বিশ্বকাপ কঠিন। সেখানে আমরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলে সমান শক্তির একটা দলকে হারিয়েছি এটা দারুণ অর্জন। তাছাড়া জয়টা এসেছে পাকিস্তানের বিপক্ষে মার্চে। এটা বাড়তি সংযোজন।’ বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেটের অনেক জয়ের নায়ক মোহাম্মদ আশরাফুল বলেন, ‘আশা করব এই জয়ের পর মেয়েদের ক্রিকেটের কাঠামো আরও ভালো হবে। তারা যেন নিয়মিত খেলতে পারে। যেহেতু টেস্ট স্ট্যাটাস পেয়েছে, তারা কবে টেস্ট খেলবে সেটার পরিকল্পনা করা উচিত। ঘরোয়া ক্রিকেটেও চার দিনের ম্যাচ খেলে যেন টেস্টের জন্য তৈরি থাকে বোর্ডের সেই চিন্তা করা উচিত।’